সিলেট ভয়েস ডেস্ক · ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২:৪৮ অপরাহ্ন
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামত প্রকল্পের আনুষঙ্গিক ব্যয়ের জন্য ইস্যু করা একটি চেকের ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৮৯ টাকা উত্তোলন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার দাবি, চেকটিতে স্বাক্ষর করার পর সেটি দাপ্তরিক কাজে জমা দেওয়ার জন্য রাখা হয়েছিল। পরে ব্যাংক হিসাবের বিবরণী সংগ্রহ করে তিনি জানতে পারেন, চেকটির বিপরীতে টাকা তোলা হয়েছে।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের দুই কর্মচারীর নাম সামনে এসেছে। ব্যাংক ব্যবস্থাপকের ভাষ্য অনুযায়ী, ইউএনও কার্যালয়ের আউটসোর্সিং কর্মী এনায়েত পাটোয়ারী চেকের টাকা উত্তোলন করেছেন। তবে চেকটি জমা দেওয়ার দায়িত্বে থাকা অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক বিশ্বজিৎ সূত্রধর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঘটনাটি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবীর কাছে লিখিত অভিযোগ করেন পাউবোর তাহিরপুর শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও উপজেলা কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্প বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কমিটির সদস্যসচিব উপসহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে সংশোধিত ‘কাবিটা নীতিমালা ২০২৩’-এর আওতায় উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ডুবন্ত বাঁধ মেরামতের ব্যয়ের ১ শতাংশ থেকে আনুষঙ্গিক খরচ মেটানোর জন্য গত ২৮ জুন ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৮৯ টাকার একটি চেক তৈরি করা হয়। স্টেশনারি সামগ্রী কেনা ও আপ্যায়ন খরচসহ অন্যান্য ব্যয় মেটানোর জন্য চেকটি প্রস্তুত করা হয়েছিল। চেক নম্বর ০৯৩০০৯৮।
মনির হোসেনের জানান, উপজেলা কাবিটা কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে তিনি চেকটিতে স্বাক্ষর করে কমিটির সভাপতি ইউএনওর স্বাক্ষরের জন্য পাঠান। ইউএনওর স্বাক্ষর নেওয়ার পর চেকটি পাউবোর শাখা কার্যালয়ে দাপ্তরিক কাজে জমা দেওয়ার জন্য বিশ্বজিৎ সূত্রধরের কাছে রাখা হয়। পরে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও চেকটি কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৬ অক্টোবর সোনালী ব্যাংকের তাহিরপুর শাখা থেকে কাবিটা প্রকল্পের চলতি হিসাবের বিবরণী সংগ্রহ করেন মনির হোসেন। তখন তিনি জানতে পারেন, গত ২০ সেপ্টেম্বর ওই চেকের বিপরীতে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এতে ব্যাংক হিসাবের বিবরণীর সঙ্গে বিল রেজিস্টারের অমিল দেখা দেয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
তবে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চেকটি পাউবোর তাহিরপুর কার্যালয়ের কার্যসহকারী জিলানী মিয়ার নামে ছিল। তবে তিনি টাকা তোলেননি বলে এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।
সোনালী ব্যাংক পিএলসির তাহিরপুর শাখার ব্যবস্থাপক অর্পণ যাত্রা বলেন, বেয়ারার চেক নিয়ে কেউ ব্যাংকে এলে টাকা উত্তোলন করতে পারেন। পরিচিত ব্যক্তিরা এলে তাদেরও টাকা দেওয়া হয়। ইউএনও কার্যালয়ের কর্মী এনায়েত পাটোয়ারী এই চেকের টাকা তুলেছেন। তিনি ওই কার্যালয়ের কর্মী এই পরিচয়েই তাকে টাকা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে এনায়েত পাটোয়ারীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তার মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে খুদে বার্তা পাঠিয়েও জবাব পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে বিশ্বজিৎ সূত্রধর বলেন, পাউবোর প্রকল্পের চেকের বিষয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন ভালো বলতে পারবেন। অন্যের নামে করা চেকের টাকা তার উত্তোলন করার সুযোগ নেই। অভিযোগ ওঠার পর ইউএনও তদন্ত করবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পাউবোর তাহিরপুর শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, ব্যাংক ব্যবস্থাপক তাকে জানিয়েছেন, ইউএনও কার্যালয়ের কর্মী এনায়েত পাটোয়ারী চেকের টাকা উত্তোলন করেছেন। এ বিষয়ে ইউএনওর সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে আলোচনা করতে তিনি তাহিরপুরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিপামনি দেবী বলেন, টাকা উত্তোলনের ঘটনা তার যোগদানের আগের। এ বিষয়ে পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেন লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। চেকটি কীভাবে অন্য একজনের মাধ্যমে উত্তোলন হলো, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ব্যাংক ব্যবস্থাপকও এভাবে অন্য ব্যক্তিকে টাকা দিয়ে ঠিক করেননি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ইউএনও আরও বলেন, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে। দ্রুত প্রতিবেদন জমা দিতে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাহিরপুরের সাবেক ইউএনও মেহেদী হাসান মানিক, যিনি বর্তমানে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বলেন, ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের চেক পাউবোর উপসহকারী প্রকৌশলী মনির হোসেনের কাছে থাকত। চেকের টাকা কে উত্তোলন করেছেন, তা তিনি বলতে পারবেন। বদলি হয়ে যাওয়ায় এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। লিখিত অভিযোগ হয়ে থাকলে বর্তমান ইউএনও তদন্ত করে ব্যবস্থা
গুগলে আমাদের খবর পেতে
