Published on
:
1 min read
এই সময়, কামারহাটি: দশভুজার বদলে বারো হাত, জগজ্জননীর পরিবারে নেই দেবসেনাপতি কার্তিক, আর তাঁর জায়গায় বিরাজ করছেন দুই লক্ষ্মী! উৎসবের মরশুমে কামারহাটিতে বিজেপির শারদীয় শুভেচ্ছা বার্তার এমনই এক আজব ফ্লেক্স ঘিরে তীব্র অস্বস্তিতে পদ্মশিবির। ভুল শুধরে তড়িঘড়ি ফ্লেক্স নামিয়ে নেওয়া হলেও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবির জেরে দলের অন্দরেই শুরু হয়েছে ক্ষোভের বিস্ফোরণ।
কামারহাটি–১ মণ্ডলের অন্তর্গত আট নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় সম্প্রতি পুজোর শুভেচ্ছা জানিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যানার টাঙানো হয়। ব্যানারের উপরে সার দিয়ে শোভা পাচ্ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে মুখ্যমন্ত্রী ও দলের রাজ্য-জেলা নেতৃত্বের হাসিমুখের ছবি। কিন্তু চোখ আটকে যায় মধ্যমণি দেবীপ্রতিমায়। শাস্ত্র ও ঐতিহ্যের তোয়াক্কা না করে তৈরি হওয়া সেই ছবিতে দুর্গার বারোটি হাত, লক্ষ্মীপ্রতিমার জোড়া উপস্থিতি এবং কার্তিকের সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি দেখে হতবাক হয়ে যান স্থানীয় বাসিন্দারা।পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে আসরে নামে দলেরই একাংশ। হিন্দু ভাবাবেগ ও সনাতন সংস্কৃতির ধ্বজাধারী দলের এমন কাণ্ডে নেটপাড়ায় সমালোচনায় মুখর হন বিজেপি কর্মীদেরই অনেকে। তাঁদের একাংশের অভিযোগ, সনাতন ধর্মকে রক্ষা করার ডাক দিয়ে শেষে দলের নেতারাই মা দুর্গাকে বিকৃত করে হাস্যাস্পদ জায়গায় পৌঁছে দিলেন। অবিলম্বে এর নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের দাবিও উঠেছে অন্দরে।
বিতর্ক চরমে উঠতেই অবশ্য দ্রুত ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন নেতৃত্ব। বিতর্কিত ফ্লেক্স সরিয়ে লাগানো হয় নতুন ব্যানার। বিজেপির এক নম্বর মণ্ডল সভাপতি বাসব পালের সাফাই, ছাপার ভুলেই এই বিভ্রাট। ফ্লেক্স লাগানোর আগে সংশ্লিষ্ট কর্মীরা তা খুঁটিয়ে না দেখায় এই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। তবে ভুল স্বীকার করলেও উৎসবের মুখে এমন আত্মঘাতী কাণ্ডে বিরোধীদের হাতে অযাচিত অস্ত্র তুলে দেওয়ার ক্ষতে প্রলেপ পড়ছে না।
