‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র রাস্তায় নেমে বিক্ষোভের ডাকের সমালোচনা করলেন অভিনেতা রণবীর শৌরী। তাঁর বক্তব্য, নিজেদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরতে রাস্তায় বিক্ষোভের বদলে আদালত, সংসদ এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের সাহায্য নেওয়া উচিত। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপি-র প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে দলের নেতাদের আটক করা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই অভিনেতার এই মন্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
রবিবার, ১১ অক্টোবর, সমাজমাধ্যমে সিজেপি-র মুখপাত্র সৌরভ দাসের একটি ভিডিয়ো ভাগ করে নেন রণবীর। ভিডিয়োয় সৌরভকে সাধারণ মানুষকে বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানাতে দেখা যায়। সেই ভিডিয়োয় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রণবীর প্রশ্ন তোলেন, গণতান্ত্রিক ও আইনি পথে দাবি জানানোর সুযোগ থাকলে রাস্তায় বিক্ষোভের প্রয়োজন কোথায়? অভিনেতা লেখেন, “রাস্তায় নয়, সংসদে এবং ব্যালটে নিজেদের সংখ্যা দেখান! আর সেখানে পৌঁছোনোর পথ অন্যায্য মনে হলে আদালতের দ্বারস্থ হন। এটাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতি! রাস্তা নিজেদের দখলে নিয়ে সাধারণ মানুষকে অতিষ্ঠ করা এবং সরকারি পরিকাঠামো ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ব্যবস্থাকে অচল করে দেওয়াই আসলে ‘গণতন্ত্রের হত্যা’!”
বিক্ষোভকে গণতন্ত্রে শেষ অবলম্বন হিসাবে ব্যবহার করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন রণবীর। তাঁর কথায়, “গণতন্ত্রে বিক্ষোভ হওয়া উচিত শেষ অবলম্বন। বিচারবিভাগ বা আইনসভার এক্তিয়ার এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নয়। মতবিরোধ প্রকাশের অধিকারকে সপ্তাহের সাত দিনই এমন বিক্ষোভে পরিণত করা যায় না, যা গোটা দেশকে অচল করে দেয় এবং বাকিদের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে। আইনি প্রতিকারের যে পথগুলি ইতিমধ্যেই রয়েছে, সেগুলি ব্যবহার না করে শুধু নৈরাজ্যবাদী, প্রচারের আলোয় আসতে আগ্রহী বা নির্বোধেরাই বিক্ষোভ করে।”
এর পর এক নেটাগরিকের মন্তব্যেরও জবাব দেন রণবীর। ওই নেটাগরিক দাবি করেছিলেন, “ভারতের প্রধান বিচারপতিও আপস করে ফেলেছেন।” সেই অভিযোগকে কটাক্ষ করে অভিনেতা লেখেন, “আপস করে ফেলেছে— এমন অভিযোগের তালিকা ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে! আমি আপস করেছি, অন্য ভোটাররা আপস করেছেন, সংবাদমাধ্যম আপস করেছে, সংসদ আপস করেছে, প্রধানমন্ত্রীর দফতর আপস করেছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার আপস করেছেন, সুপ্রিম কোর্টও আপস করেছে… শুধু রাস্তায় ঢোল পেটানো, সন্দেহজনক কারণে পরিচালিত এবং নির্বাচনে জিততে না-পারা দলগুলির জমায়েতই বিশ্বাসযোগ্য!”
সিজেপি-র নেতৃত্বে রয়েছেন অভিজীত দিপকে। গত ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল দলটি। এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন তাঁরা।
বিক্ষোভের আগে মুম্বই থেকে দিল্লিতে পৌঁছোনোর পরে বিমানবন্দরেই সিজেপি-র তিন নেতা— অভিজীত, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। রবিবারও রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল।
