Published on
:
7 min read
নন্দিতা আচার্য
সুজান বলে—দেখেছিস, পাশে শুঁড়ওলা গণেশ তাঁর ইঁদুর নিয়ে? সঙ্গে লক্ষ্মী আর পেঁচা। আর এক দিকে দেখ, ময়ূরের ওপর কার্তিক, হাঁসের সঙ্গে সরস্বতী। মা দুর্গার ছেলেমেয়ে ওরা। আর অ্যানিম্যালরা ঠাকুরদের বাহন। ওতে চেপে ঠাকুররা এখানে নেমে এসেছে।
***
কলকাতায় এসে দাদুভাইয়ের সঙ্গে রোজ সকালে মর্নিং ওয়াকে যাই আমি। গেটের কাছের এত্ত এত্ত সাদা ফুল পেরিয়ে রাস্তায় নামি। দাদুভাই বলে, এটা শিউলি ফুল, দেখ কী সুন্দর! পুজো আসছে যে...। আমি ভাবি, পুজো কি বার্থ ডে গার্ল? সবাই শুধু তার কথা বলছে!
মা দোকানে নিয়ে গিয়ে আমার জামা কিনছিল। আমার একটুও ভালো লাগছিল না তখন। টুলের ওপর খালি গায়ে দাঁড়িয়ে আছি, কেবল জামা পরিয়ে যাচ্ছে মা? আমি কাঁদব কি না ভাবছিলাম। কিন্তু বাবা বলে, দুর্বলরা কাঁদে। তাই খেলার সময়ে উল্টে পড়ে হাঁটু কেটে গেলেও কাঁদি
না আমি।
ওই দোকানটায় আরও সব যারা জামা কিনছিল, তারা বারবার পুজোর কথা বলছিল। আমি ভাবছি, পুজো কী? মা বলে, এ মা, মনে নেই তোমার? দার্জিলিং পাহাড়েও তো দুর্গা পুজো হতো, তুমি বাবার কাঁধে চেপে দেখতে?
পাহাড় থেকে কলকাতায় আসার পর আমি কেবল বায়না করি পাহাড়ের জন্য। মা বলল, পুজোতে দেবী দুর্গা পাহাড় থেকেই নেমে আসবেন। দেখবে কত্ত মজা হয়। ঠিক আছে, তাঁকে বলছি, তোমার জন্য একটা পাহাড় নিয়ে আসতে।
আমি ভীষণ হ্যাপি হয়ে মা-কে বললাম, আনবে তো তোমার বন্ধু?
মা বলে, কে বন্ধু? ও হ্যাঁ, দেবী দুর্গা তো? তিনি শুধু আমার বন্ধু নন, তোমারও বন্ধু। আমি ভাবি, মায়ের বন্ধু কেমন করে আমার বন্ধু হবে? আমি কি তা হলে বড় হয়ে গেছি? দাদুভাই মাঝে মাঝে আমায় জিজ্ঞেস করে, মনের ভেতর কী চলছে সোনা? প্রথমে ‘মনের ভেতর চলা’ বুঝতাম না। তার পর দাদুভাই বুঝিয়ে দিলো। এখন মায়ের সঙ্গে কথা বলছি আর আমার মনের ভেতর চলছে, পাহাড় কী করে নিয়ে আসবে মায়ের ‘দেবী দুর্গা’ বন্ধু? পাহাড়কে কি ইয়া বড় লরি গাড়ি করে আনা যায়?
আমাদের বাড়ির গেটের বাইরে খুব বড় ঘর হয়েছে। ইয়েলো রেড ব্লু... কত রকম কাপড়ে। আমি জিজ্ঞেস করি, দাদুভাই, এই ঘরে কে থাকবে? আমার লালু কালু ম্যাওপুসি বন্ধুরা থাকতে পারবে?
দাদুভাই বলে, একে প্যান্ডেল বলে, দুর্গা ঠাকুর আসবেন।
আমার স্কুলে পূজা ভ্যাকেশন পড়েছে মায়ের ‘দুর্গা ঠাকুর বন্ধু’ আসবে বলে। এ দিকে ফাইভ ডেজ় আগেই আমার জ্বর হলো। স্কুলে যেতে পারছি না, মর্নিং ওয়াকেও নয়। জ্বরের জন্য সুজান আর রুশো রোজ আসছে আমায় দেখতে, লুকিয়ে সিগারেট-লজেন্স নিয়ে। লজেন্স চকোলেট বাবা খেতে দেয়না। দাঁতে নাকি পোকা হয়। দাদুভাইকে জিজ্ঞেস করেছি, পোকাদের কি প্রাণ আছে? দাদুভাই বলেছে, আছে।
তা হলে দাঁতের পোকা তো খারাপ নয়, আমার সঙ্গে একটা লিভিং থিং সব সময়ে থাকবে। আমি তো মা বাবা দাদুভাই আম্মা, সবার কাছে কত বায়না করি, ম্যাওপুসি ডগি বার্ড... একটা লিভিং থিং-এর জন্য। কেউ দেয় না আমাকে। তবে দাঁতের ছোট্ট পোকাই থাকুক না! কিন্তু সুজান বলছিল, দাঁতের পোকারা নাকি কামড়ে দেয়। কে জানে, কত কী-ই না আমি বুঝতে পারি না। আমার কি এখন ছোটবেলা? অনেক দিন আগে, দার্জিলিং-এ থাকতাম তখন, কলকাতার বাড়িতে এসে মাঠে খেলা করছি। সে সময়ে একটা দাদা বলে, মেয়েরা এক দিকে আর ছেলেরা আর এক দিকে দাঁড়া। আমি ছেলে না মেয়ে, কিছুতেই বুঝতে পারছি না, মাঝখানে দাঁড়িয়ে শুধু শার্টের বোতাম চিবোচ্ছি। সুজান দৌড়ে এসে আমাকে ওর লাইনে নিয়ে গেল। তখন বুঝলাম, আমি মেয়ে।
শরীর খারাপ বলে দাদুভাইয়ের সঙ্গে মর্নিংওয়াক করতে পারছি না। আমি ঘুমোচ্ছিলাম। তখন কী সুন্দর একটা গানের স্বপ্ন পেলাম। সুজান এসে আমাকে ঠেলে— ওঠ্ ওঠ্, প্যান্ডেলে ঠাকুর এসেছে।
অমনি ঘুম ভেঙে গেল আমার, দেখি স্বপ্নের গানটা এখনও বাজছে। সুজান আর রুশো আমার হাত ধরে টানে। দাদুভাইও এসেছে। বলছে, উঠে পড়ো সোনা, দেখছ, বাইরের প্যান্ডেলে কেমন ওস্তাদ বিসমিল্লা খানের সানাই বাজছে?
সানাই কী?— জানি না আমি, দাদুভাই বলছে, আমাকে সানাই দেখাবে। বিসমিল্লা খান নাকি খুব বড় এক মানুষ। বিসমিল্লা কত বড়? দার্জিলিং পাহাড়ের ইউক্যালিপটাস গাছের মতো! তাই তাঁর ‘সানাই বাজনা’ আমার ক্যাডবেরির চেয়েও বেশি
ভালো লাগছে?
সুজান আর রুশো বলে, তুই এখনও শুয়ে আছিস? বাইরে কত মজা হচ্ছে দেখ এসে!
আমি উঠে বসি। মা বলছে, সুজান দিদি আর রুশো দাদা কেমন পরিষ্কার হয়ে সেজেগুজে এসেছে? তুমিও শিগগির ব্রাশ করে নাও…
আমি রুশো আর সুজানের জামা জোরসে টেনে ধরি। ওরা বলে, ছাড় আমাদের, দেরি হয়ে যাচ্ছে। তুই
রেডি হয়ে তাড়াতাড়ি আয়, আমরা প্যান্ডেলে আছি।
আমি বায়না করি, ‘তোঁরা যাবি না… আঁমি এখনি ঠাকুর দেখব। ’
দালানে এখন হাসি হাসি মুখে দাদুভাই দাঁড়িয়ে আছে। বলছে, এসো, ব্রাশ করিয়ে দিই? আমি কড়ে আঙুল দেখিয়ে আড়ি বলি। কেন আমায় আগে ডাকেনি সে?
তবু দাদুভাইয়ের কাছেই ব্রাশ করি। তার পর দৌড় দিতে যাই। মা বলে, জামাটা ছাড়িয়ে দিই? রাতে শোবার জামা পরে কেউ ঠাকুর দেখতে যায় না।
***
কাপড়ের ওই বিগ ঘরটার ভেতরের স্টেজে কারা যেন দাঁড়িয়ে। রুশো বলছে, সবচেয়ে বড় যে, সে দুর্গা। আমি দেখি, তাঁর এত্তগুলো হাত। হাতের মধ্যে কত কিছু রয়েছে। সুজান দেখায়, কত অস্ত্র, দেখ?
অস্ত্র কী রে? এ কথা বলায় ওরা রেগে যায়। কিচ্ছু জানিস না, এত ছোট হয়েও বড়দের সঙ্গে ফ্রেন্ডশিপ করিস, তা হলে এমনই হবে!
আমি সুজানকে বলি, তোর দাঁত পড়ে গেলে ইঁদুরের গর্ত দেখালাম যে, ভালো টিথ হবে বলে? ছোটরা খুঁজতে পারে অমন? দাদুভাই যে আমার বন্ধু, তোরা জানিস না? তা হলে আমি কী করে বেবি হবো! সুজান তার পর আমার গালে আঙুল দিয়ে বলল, আচ্ছা বাবা, তুই বেবি নস্। কী বলছিলি, বাহন কাকে বলে, তাই না? আমি মাথা নাড়াই, হ্যাঁ। তার পর একটা আঙুল দেখাই, মানে আরও একটা কোয়েশ্চেন আছে। সুজান বলে, ঠাকুররা যাতে চেপে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে আসে, তাকে বাহন বলে। আর বল?
আমি পা উঁচু করে সুজানের কানে কানে বলি, ওইটুকু ইঁদুরের পিঠে চেপে গণেশ ঠাকুর কেমন করে পৃথিবীতে এলো? সুজান চুপ করে থাকে, তার পর বলে, মায়ের থেকে জেনে বলব। এখন চুপ করে ঠাকুর দেখ।
মায়ের বন্ধু এই দুর্গা? মাথায় ক্রাউন, তার তলা দিয়ে হেয়ার। রেইনি ডে-র কালো মেঘের মতো ইয়া বড়। সারা গায়ে কত কী পরেছে, সেগুলো নাকি অলঙ্কার! ‘অলঙ্কার’ কথাটা কী সুন্দর, আমি তখনই মনে মনে আমার আর একটা নাম দিলাম, অলঙ্কার! দেবী দুর্গার কপালে আবার আলো। রুশো বলে, ওটা ভগবানের থার্ড আই। আমি হাঁ করে দেখি, মায়ের এই বন্ধুকে দেখতে সিন্ডারেলার চেয়েও সুন্দর!
পা উঁচু করে সুজানের কানের কাছে মুখ নিয়ে আবার জিজ্ঞেস করি, আমাদের অমন বাহন আছে? সুজান বলে, তুই দার্জিলিং থেকে কীসে করে এখানে এসেছিস?
এ আবার কেমন কথা বলছে সুজান? আমি বলি, ট্রেনে। ও বলে, ওই ট্রেন-বাস-রিক্সা আমাদের বাহন। আমরা বাসে চেপে স্কুলে যাই। আর ছোটদের ক্লাস হয় বেলায়, তুই রিক্সা চেপে স্কুল যাস তখন।
আমি কিছু বলতে যাচ্ছিলাম, যে আমি বাচ্চা নই… আর তখনই দেখি, প্যান্ডেলে এসেছে মা। মায়েরও তার বন্ধুর মতো অনেক খোলা চুল, উড়ছে ফ্যানের হাওয়ায়। আমাকে একজন ‘চাঁপা’ বলে ডাকছে। মা আবার তার সঙ্গে গল্প করছে।
আমি নিজেকে যে নামগুলো দিয়েছি, তার একটা নাম হলো ‘চাঁপা’। আমার নাচের স্কুলের বন্ধু একদিন ওদের বাগানের ওই ফুলটা আমায় দিয়েছিল। কী সুন্দর গন্ধ। তাই নিজের নাম রেখেছিলাম, চাঁপা। নিজেকে আমি অনেক নাম দিই। আজ নাম দিলাম ‘অলঙ্কার’। কিন্তু মা এসব জানে না। আমায় বাইরের মানুষরা নাম জিজ্ঞেস করলে, মাঝে মাঝে আমি ‘চাঁপা’ নাম বলি। মা কেন ‘বাইরের মানুষ’-এর সঙ্গে গল্প করছ? যে আমাকে চাঁপা বলে ডাকছে?
আরে বাবা রে, প্যান্ডেলে দু’জন কাঠি দিয়ে বড় বড় কী সব বাজানো শুরু করেছে! পাশে থালার ওপর রুল দিয়ে ঢং ঢং করছে রুশোর মতো একটা দাদা। কারা আবার নাচতে শুরু করেছে। সুজান বলছে, ওকে ঢাক বলে, পাশেরটা কাঁসর।
আমি আবার আঙুলে দাঁড়িয়ে উঁচু হয়ে মুখটা সুজানের কানের ভেতর ঢুকিয়ে
বলি, ফোরহেডে কী? আলো? যার সাতটা-দশটা হাত!
সুজানের চোখ বড় হয়ে যায়, সাতটা নয়, দশটা হাত। ফোরহেডে ওটা আলোর চোখ, ওই চোখের জন্য বায়না করিস না যেন। ওটা শুধু ভগবানদের থাকে। নমো নমো। আমি নমো করতে করতে বলি, মায়ের বন্ধু, আমাকে একটা আলোর চোখ দেবে? আর তুমি কি আমার জন্য পাহাড় এনেছ? মা বলেছে, তুমি পাহাড় আনবে। ভগবানরা ইচ্ছে করলে সব আনতে পারে।
এ সব কথা আর নমো করা শেষ। সুজান বলছে, আজ সন্ধে বেলা আমরা বেশ আলুকাবলি কিনে খাব, হ্যাঁ? আমি খুব আনন্দে মাথা নাড়াই, আচ্ছা! ঠিক তখনই দেখি, দেবী দুর্গার পায়ের তলার লায়নকে, একটা মানুষকে কামড়ে ধরেছে। দেবী কী যেন ফুটিয়ে দিয়েছে ওদের বুকে, রক্ত বের হচ্ছে খুব। কিছু বলতে যাই, কিন্তু ঢাকের বাজনা খুব জোরে জোরে বাজছে।
গোয়ালা দাদুর মোষকে গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করি আমি। এখানে অসুর আর মোষকে অমন দেখে আমার কান্না পায়। দেবী দুর্গা আর তাঁর ছেলেমেয়েরা এত্ত সেজেছে, কিন্তু অসুরের গায়ে জামা নেই। আমার খুব কষ্ট হচ্ছে, কারওকে বলতে পারছি না। দেখি ‘বাইরের মানুষে’-র সঙ্গে মা এগিয়ে আসছে। ‘বাইরের মানুষ’ খুব হাসছে, মা-ও হাসছে আর বলছে— জানেন, স্কুলে পর্যন্ত নিজের আসল নাম না বলে এই সব নাম বলে সবাইকে, টিচারদেরও। ‘বাইরের মানুষ’ আমাকে গাল টিপতে আসে, আমি লাফিয়ে রুশোর পেছনে দাঁড়িয়ে পড়ি। একটা কাকু চেঁচিয়ে বলে, তোমরা ওর ‘নজরুল’, ‘চাঁপা’ এই সব নাম রাখা নিয়ে এমন করলে ওর বুঝি দুঃখ হয় না! কে বলেছে ও নিজের নাম নিজে রাখতে পারবে না? তখন একটা পিসি বলে— বউদি, দাঁত দিয়ে জামা কাটে বলে আজকেও সোনা বাচ্চাটাকে শার্ট প্যান্ট পরিয়েছ? কত্ত জামা কিনেছ, পরিয়ে দাও ওকে।
মা-কে খুব হ্যাপি লাগছে। খুব হাসছে। শুধু মা নয়, সবাই হাসছে। আমি ছাড়া আর কারওর দুঃখ নেই। মা কাছে এসে দাঁড়িয়েছে, চলো, তোমাকে পিঙ্ক নতুন জামাটা পরিয়ে দিই? দেখ, সবাই কেমন সেজেছে! এ কী! কান্না আসছে কেন?
আমি রুশোর পেছন থেকে দেখছি, সবাই আমার ‘নিজের নাম নিজে রাখা’ নিয়ে হাসাহাসি করছে। একমাত্র মহিষাসুর দুঃখী হয়ে আমাকে দেখছে। আহারে, টিকা নিতে আমার কেমন কষ্ট হয়, আর বুকে এত রক্ত বেরোনো ‘অসুর মানুষ’-এর কত্ত বড় কষ্ট হচ্ছে!
মা বলে, চলো, বাড়ি গিয়ে সাজগোজ করে আসবে। পা শক্ত করে দাঁড়িয়ে আছ কেন সোনাই?
কপালে আলোর চোখ, দশ হাতের সে। তাঁকে ফেলে কিছুতেই আমি প্যান্ডেল ছাড়ব না! আমার অনেক কিছু আস্ক করার আছে। আমি শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে থাকি। মায়ের বন্ধুর হাত ভর্তি অস্ত্র, আর আমার হাতে ললিপপ্। মা বলে, লক্ষ্মী সোনা, চলো?
আমাকে লজ্জা দিয়ে পাড়ার এক কাকু কোলে করে নেয়। বলছে, বৌদি আমি দিয়ে আসছি নজরুলকে। সে কিন্তু ‘নজরুল’ বলে হাসছে না। কান্না এসে যাবার জন্য বলতেও পারি না, ‘নামিয়ে দাও’। কাকুর কাঁধের ভেতর মুখ হাইড করে কাঁদি। প্যান্ডেলের সবাই বলতে থাকে, ‘কাঁদছিস কেন পুপু?’ মা বলে, কীসের দুঃখ সোনা?
আমি বলি, অসুরের মা নেই? দাদুভাই, আম্মা… কেউ নেই? সবাই মিলে ওকে মারছে কেন! মা বলে, ও তো দুষ্টু, তাই। আমার কান্না থামে না। আমি বলি, মা, তোমার বন্ধু ‘দেবী দুর্গা’-কে আমি বন্ধু করব না। ‘অসুর মানুষ’-কে সে ভালোবাসেনি কেন? আমার জন্য ‘পাহাড়’ আনলেও ভাব করব না!
রুশো আর সুজান খুব হাসছে, বলছে, ঠাকুর কিন্তু পাপ দেয়।
পাপ কি পাঁপড়? কিছুতেই বুঝতে পারি না। শুধু বলি, পাপ আমার চাই না। সুজান আর রুশোর সঙ্গে সবাই হাসতে থাকে এ বার, অসুরের জন্য ও কাঁদছে? রুশো বলে, এ দিকে আমাদের সব্বাইকে নাম ধরে ডাকে, ভাবে আমাদের মতো বড়।
কী লজ্জা হচ্ছে আমার, কিছুতেই কান্না চলে যাচ্ছে না। তার পর রুশো আর সুজান আমার বন্ধু, তবু ওরা এমন করছে? আরও ক্রাইং আসছে আমার। মা বলে, ‘দাদুভাই তোমাকে সব বুঝিয়ে দেবে। এবার বাড়িতে চলো লক্ষ্মী সোনা!’
কপালে ‘আলোর চোখ দেবী দুর্গা’ নয়, চারদিকে আমি মহিষাসুর দেখছি। অসুর মানুষ বলছে, আমার চোখের জল শুধু তুমি দেখলে পুপু, পৃথিবীতে শুধু তুমিই আমার বন্ধু!
