কালবেলা · আন্তর্জাতিক
সৌদি বিমানবন্দরে হামলার পর যাত্রীদের বাঁচাতে গিয়ে প্রাণ গেল কর্মীর
২৪/১০/২০২৬

সৌদি আরবের দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার পর আগুন নেভাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন সেখানকার এক কর্মী। যাত্রীবাহী উড়োজাহাজে আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় সহকর্মীদের সঙ্গে আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিয়েছিলেন সুলতান বিন আলি আল মাসতুর আল কাহতানি। পরে ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা শুরু হলে হাসপাতালে নেওয়া হয় তাকে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। খবর গালফ নিউজের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) বিমানবন্দরে দায়িত্ব পালন করছিলেন সুলতান। এ সময় একটি ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রক্ষেপণাস্ত্র বিমানবন্দরে আঘাত হানলে আগুন ধরে যায়। যাত্রীবাহী একটি উড়োজাহাজের কাছেই আগুনের সূত্রপাত হয় বলে জানান তার বাবা আলি আল কাহতানি।
আগুন উড়োজাহাজে ছড়িয়ে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কায় সুলতান ও তার সহকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। হাতে বহনযোগ্য অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন তারা।
এ সময় ধোঁয়া শ্বাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করায় সুলতানের শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা শুরু হয়। পরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে মৃত্যু হয়।
সৌদি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুলতানের বাবা বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে তার ছেলে দ্রুত সাড়া দিয়েছিলেন। নিজের নিরাপত্তার কথা না ভেবে যাত্রীদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন তিনি।
বিস্ফোরণের সময় বিমানবন্দরের ১৯ ও ২০ নম্বর গেটের কাছাকাছি এলাকায় দায়িত্ব পালন করছিলেন সুলতান। আগুন পাশের উড়োজাহাজে ছড়িয়ে পড়তে পারে ভেবে সহকর্মীদের সঙ্গে সেখানে যান তিনি। পরে কার্যালয়ে ফিরে বুকে ব্যথার কথা জানান। সহকর্মীরা তাকে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দিলে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সৌদি গণমাধ্যমের খবরে হামলাটির জন্য ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের দায়ী করা হয়েছে। হামলায় বিমানবন্দরের অবকাঠামোও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সৌদি বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সুলতান ছাড়াও আরও একজন নিহত হন এবং আটজন আহত হন। পরে নিহত আরেক ব্যক্তির সৌদি নাগরিকত্ব নিশ্চিত করা হয়।
সুলতানের বাবা তাকে শহীদ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, অন্যদের রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন তার ছেলে। পরিবারের সদস্যদের কাছেও সুলতান ছিলেন একজন দায়িত্বশীল স্বামী, বাবা ও সন্তান। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিশেষ করে শুক্রবারগুলোতে তার মা ও ভাইবোনরা নিয়মিত তার সঙ্গে দেখা করতে যেতেন।
সুলতান স্ত্রী ও ছয় সন্তান রেখে গেছেন। তাদের মধ্যে দুই ছেলে ও চার মেয়ে। সবাই এখনো স্কুলে পড়াশোনা করছে। তার বড় ছেলে মাধ্যমিকের দ্বিতীয় বর্ষে এবং ছোট ছেলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়ছে।
ছেলেকে হারানোর শোকের মধ্যেও তার সাহসিকতা নিয়ে গর্ব প্রকাশ করেছেন বাবা আলি আল কাহতানি। অন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার সিদ্ধান্তকে তিনি ছেলের আত্মত্যাগ হিসেবে দেখছেন।
সূত্র : গালফ নিউজ
মূল প্রতিবেদনে যান ↗