নিজস্ব প্রতিবেদক । চট্টগ্রামনিউজ.কম
প্রায় ৩০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর প্রশাসনের সহায়তায় ক্যাম্পাস ছেড়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম গিয়ে তাকে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধার করেন।
সোমবার বেলা সাড়ে ১২টা থেকে উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন নতুন উপাচার্য। তার সঙ্গে আরও ১০ জন সেখানে অবরুদ্ধ ছিলেন। উপাচার্যের সঙ্গে তারাও ক্যাম্পাস ছাড়েন।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “উনি (উপাচার্য) শারীরিকভাবে অসুস্থ। তিনি চিকিৎসার জন্য যাচ্ছেন। উনাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।”
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে সপ্তাহ কয়েক ধরে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।
“গতকালও আমাদের প্রতিনিধি এসেছিলেন, ছাত্র ভাইদের সাথে আলোচনা করেছেন। ছাত্র ভাইদের সাথে কথা বলে তার উন্নত সুচিকিৎসা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে উনাকে নিয়ে যেতে এসেছি। ডাক্তার পরামর্শ দিয়েছে, তাকে ভালো একটা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দিতে।”
চুয়েটে চলমান সংকট নিরসন বিষয়ে তিনি বলেন, “সংকট নিরসনে আমরা সরকারের সাথে আলোচনা করছি। আশা করছি দ্রুত সংকট নিরসন হবে।”
‘উপাচার্যকে পদত্যাগ করে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হবে’- শিক্ষার্থীদের এমন দাবির বিষয়ে ডিসি বলেন, “উনার চিকিৎসা ও নিরাপত্তার বিষয়ে আমরা কনসার্ন। সেটা নিয়েই আমরা কাজ করছি এখন।”
এরপর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পক্ষে অর্ণব বলেন, “শুরু থেকে আমাদের দাবি ছিল আগের উপাচার্যকে পুনবর্হালের। উনার (অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম) বিরুদ্ধে আমাদের কোনো ক্ষোভ ছিল না।
“উনি এর মাঝে ক্যাম্পাসে আসেননি। কিন্তু শিক্ষকদের হয়রানি ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দেওয়া শুরু করেছিলেন। এই ব্যাপারগুলো যখন কানে আসে তখন ছাত্র হিসেবে আমাদের শিক্ষকদের অসম্মান মেনে নিতে পারি না।”
এই শিক্ষার্থী বলেন, “এরপর তিনি চুয়েটের শিক্ষক এবং কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন বন্ধ করে দিয়েছেন উনার প্রশাসনিক ক্ষমতাবলে। এই পর্যায়ে শেষ পর্যন্ত আমরা আর উনাকে ক্যাম্পাসে দেখতে চাইনি।
“পরবর্তীতে হুট করে লোকচক্ষুর আড়ালে কতিপয় বহিরাগতকে নিয়ে তালা ভেঙে ভিসি ভবনে প্রবেশ করেন। খবর পেয়ে আমরা ভিসি ভবনে আসি। চট্টগ্রাম শহর থেকে অন্য শিক্ষার্থীরা এখানে এসে যোগ দিতে চাইল। এই রুটে কখনো কেউ চুয়েট বাসে আক্রমণ করার সাহস পায়নি। গতকাল দুই দফায় আমাদের বাসে সন্ত্রাসীরা হামলা করে।”
প্রশাসনের সঙ্গে বহুবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সোমবার কোনো সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থী অর্ণব।
চলমান আন্দোলনের অংশ হিসেবে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকে তালা দেয়।
তখন ভবনের ভিতরে ছিলেন উপাচার্য, চুয়েট শাখা ছাত্রদলের নেতা ও চুয়েট এর অ্যালমনাইসহ ১২ জন। অসুস্থ বোধ করায় তাদের মধ্যে একজনকে সোমবার গভীর রাতে ওই অবরুদ্ধ ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এরপর সোমবার রাত ১১টার দিকে রাউজান উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভূমি) অংছিং মারমা উপাচার্য ভবনে যান। সেখানে তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলেন এবং ভবনটির পানি-বিদ্যুৎ চালুর অনুরোধ করে ফিরে যান।
ভবনে অবরুদ্ধ অবস্থা থেকে উদ্ধারের জন্য মঙ্গলবার সকালে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানিয়েছিলেন উপাচার্য শেখ শরীফুল।
এরমধ্যে মঙ্গলবার দুপুরে ‘বুকে ব্যথা’ অনুভব করছেন জানিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন নতুন উপাচার্য।
মঙ্গলবার শেষ বিকালে চুয়েট ক্যাম্পাসে যান ডিসি ও এসপি। পরে তারা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে উপাচার্যকে ক্যাম্পাস থেকে নিয়ে যাবেন বলে জানান। এরপর তারা উপাচার্য ভবনে প্রবেশ করেন। এর কিছু সময় পর উপাচার্যকে নিয়ে বেরিয়ে আসেন তারা।
উপাচার্য ভবনের ফটক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষে অর্ণব হ্যান্ডমাইকে ঘোষণা দেন, “আমাদের নবনিযুক্ত ভিসি যিনি লুকিয়ে এই চুয়েটে প্রবেশ করেছিলেন। আজকে এই চুয়েট থেকে উনি জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে বের হয়ে যাচ্ছেন, একটা মাত্র শর্তে। উনি আর কখনো এই চুয়েটের মাটিতে পা রাখবেন না।”
এরপর পুলিশ প্রহরায় উপাচার্য গাড়িতে উঠেন। সেসময় শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকে।
এর আগে শিক্ষার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে ডিসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, “যাকে সরকারের পক্ষ থেকে যোগদানের আদেশ করা হয়েছিল, ভিসি মহোদয়, গতকালকে তিনি এসেছিলেন। দীর্ঘ সময় তিনি অবরুদ্ধ রয়েছেন। তিনি আমাদেরকে ফোনে এবং লাইভে এসে শারীরিক অসুস্থতার কথা বলেছেন। এখানে ইলেকট্রিসিটি ও পানি নেই। তিনি অসুস্থ বোধ করছেন।
চট্টগ্রামনিউজ/ এসডি/
