শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে টানা আট দিন বন্ধ থাকছে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল ও ভারতের পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য। তবে এ সময়ে দুই দেশের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে। আগামী ২৫ অক্টোবর (রোববার) সকাল থেকে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হবে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, দুর্গাপূজা উপলক্ষে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত পাঁচ দিন এবং বাংলাদেশে সাপ্তাহিক ছুটিসহ ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য বন্ধ থাকবে। এ বিষয়ে পেট্রাপোলের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন থেকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।
তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও ১৮ ও ১৯ অক্টোবর বেনাপোল কাস্টমস ও বন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। এ সময় পণ্য ওঠানো-নামানো, খালাস ও শুল্কায়নের কাজ চলবে।
এদিকে, এক দিন বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ থাকলেই দুই দেশের বন্দরে পণ্যজট ও যানজটের সৃষ্টি হয়। সেখানে টানা আট দিন আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকায় ছুটি শেষে দুই বন্দরে তীব্র পণ্যজট ও যানজটের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ভারত থেকে প্রায় ৫০০ ট্রাক বিভিন্ন ধরনের পণ্য আমদানি-রপ্তানি হয়। পাশাপাশি চিকিৎসা, ব্যবসা ও অন্যান্য প্রয়োজনে প্রতিদিন দেড় হাজারের বেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী এ পথে যাতায়াত করেন। বাণিজ্যিক কার্যক্রম থেকে সরকার প্রতিদিন প্রায় ১০ কোটি টাকা এবং যাত্রী যাতায়াত থেকে প্রায় ২০ লাখ টাকা রাজস্ব পায়।
ভারতের পেট্রাপোল বন্দর ক্লিয়ারিং এজেন্টস স্টাফ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক কার্তিক চক্রবর্তী বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার সরকারি ছুটির কারণে ১৭ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত পেট্রাপোল বন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত ছুটি থাকায় দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। দীর্ঘ ছুটি পেয়ে তাঁদের সংগঠনের সদস্যরা খুশি। আগামী ২৫ অক্টোবর রোববার সকাল থেকে দুই দেশের মধ্যে পুনরায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু হবে।
তিনি আরও বলেন, দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকার ভারতকে ইলিশ মাছ পাঠালে বিশেষ ব্যবস্থায় তা খালাসের ব্যবস্থা করা হবে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রুহুল আমিন বলেন, দুর্গাপূজার ছুটির বিষয়টি ভারতের কাস্টমস কর্তৃপক্ষ এবং দুই দেশের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা তাঁদের জানিয়েছেন। আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও ১৮ ও ১৯ অক্টোবর বেনাপোল বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানো, খালাস ও শুল্কায়নের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকবে। পণ্য খালাসের পর ভারতীয় ট্রাকচালকেরা খালি ট্রাক নিয়ে নিজ দেশে ফিরে যেতে পারবেন।
তিনি জানান, ছুটির মধ্যেও বেনাপোল-পেট্রাপোল চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত স্বাভাবিক থাকবে। ২৫ অক্টোবর সকাল থেকে পুনরায় আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালু হবে।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, দুর্গাপূজার ছুটিতে পণ্য পরিবহন বন্ধ থাকলেও বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। ভারত থেকে বাংলাদেশে আসা এবং বাংলাদেশ থেকে ভারতে যাওয়া যাত্রীরা নিয়মিতভাবে যাতায়াত করতে পারবেন। যাত্রীসেবা বাড়াতে ইমিগ্রেশন চত্বরে পুলিশের জনবলও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
ইএন/এসএ
