অরুণাচল প্রদেশে ‘সংঘাত জারি’ থাকা নিয়ে আইটিবিপি প্রধানের মন্তব্য ঘিরে কেন্দ্রের উপর চাপ বাড়াচ্ছে বিরোধী দলগুলি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছ থেকে এর জবাব চেয়েছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে। তাঁর দাবি, অরুণাচলে বর্তমানে কী পরিস্থিতি রয়েছে— সেই বাস্তব চিত্র দেশবাসীর কাছে তুলে ধরতে হবে। মোদীকে খোঁচা দিয়ে খড়্গে বলেন “চিনকে আর ‘ক্লিন চিট’ দেওয়া চলবে না।”
লাদাখের গলওয়ান উপত্যকায় ২০২০ সালে ভারত এবং চিনা সেনার মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। বিনা প্ররোচনায় ভারতীয় বাহিনীর উপর হামলা করেছিল চিনা ফৌজ়। ওই সংঘাতের পর থেকে দিল্লি-বেজিং সম্পর্কে এক দীর্ঘ টানাপড়েন চলে। যদিও গত কয়েক মাসে সম্পর্ক ফের মসৃণ করতে উদ্যোগী হয় দু’দেশই। প্রধানমন্ত্রী মোদী গত বছরই ঘুরে এসেছেন চিন থেকে। সম্প্রতি চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও ভারত সফরে আসেন। কিন্তু এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার আইটিবিপির ডিজি শত্রুজিৎ কপূরের মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়ে যায়। শুক্রবার সেই শোরগোল আরও বৃদ্ধি পেতে থাকে।
বৃহস্পতিবার রাজস্থানের আলওয়ারে আইটিবিপি-র এক অনুষ্ঠানে বক্তৃতার সময়ে বাহিনীর শৌর্য কমান্ডোদের প্রশংসা করছিলেন শত্রুজিৎ। সে সময়েই তিনি বলেন, “সম্প্রতি অরুণাচল প্রদেশে মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। এবং তা এখনও চলছে। সেখানে আমাদের শৌর্য কমান্ডোরা অনবদ্য ভূমিকা পালন করেছেন।” কাদের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে সরাসরি কারও নামোল্লেখ করেননি আইটিবিপি প্রধান। তবে তিনি যে চিনা ফৌজকেই বোঝাতে চেয়েছেন, তা সহজেই অনুমেয়।
এক দিকে যখন ভারত-চিন সম্পর্কের নতুন সমীকরণ নিয়ে আলোচনা চলছে, তখন আইটিবিপি প্রধানের এমন মন্তব্যে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর জবাবদিহি দাবি করেছেন খড়্গে। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, “চিনকে আর ‘ক্লিন চিট’ দেওয়া যাবে না। দেশের কাছে সব সত্য তুলে ধরতে হবে প্রধানমন্ত্রী মোদীকে।” তাঁর সংযোজন, “প্রধানমন্ত্রীর উচিৎ বিরোধীদের আক্রমণ না-করে, সংসদকে এবং দেশবাসীকে বাস্তব পরিস্থিতি জানানো।”
অরুণাচলের পরিস্থিতি নিয়ে আইটিবিপি ডিজির মন্তব্য ‘ভীষণ উদ্বেগজনক’ বলে মনে করছেন কংগ্রেস সভাপতি। “ডোকলাম এবং গলওয়ানের পর কি আরও একটি বড় ধরনের সংঘাত দানা বাঁধছে?” প্রশ্ন খড়্গের। অরুণাচল যে ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ, তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রবীণ কংগ্রেস নেতার প্রশ্ন, “কেন দেশবাসীকে পরিস্থিতি নিয়ে ধোঁয়াশার মধ্যে রাখা হচ্ছে?”
পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগপ্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সভাপতি। সমাজমাধ্যমে তিনি লেখেন, ২০২০-২১ অর্থবর্ষ থেকে ভারতে চিনা আমদানি ১০২ শতাংশ বেড়েছে। অথচ চিনের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতি ১৫৫ শতাংশ বেড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। খড়্গে লেখেন, “কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমনও স্বীকার করে নিয়েছেন যে চিন ভারতীয় পণ্য রফতানিতে বাধা তৈরি করছে। তার পরেও (কেন্দ্রীয়) সরকার চিনা বিনিয়োগের উপর বিধিনিষেধ শিথিল করছে।”
