লাখো ভক্ত, দেশি-বিদেশি পর্যটকের উপস্থিতিতে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে হয়ে গেল দেশের সর্ববৃহৎ বিসর্জন অনুষ্ঠান। এ বিসর্জন অনুষ্ঠান দেখতে দীর্ঘ পূজার টানা ছুটিতে পর্যটকের ঢল নামে কক্সবাজারে। আজ বুধবার বিকেলে বিসর্জন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভুমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন।
ভক্ত ও পূজারিরা প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বে শান্তির জন্য প্রার্থনা করেন দেবীর কাছে। বিসর্জন ও টানা ছুটির কারণে কক্সবাজারে বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটায় জমে ওঠে পর্যটন। পর্যটক ও ভক্তদের জন্য নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা।
বাঙালি সনাতন সম্প্রদায়ের সর্ববৃহ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উপলক্ষে চলছে টানা ছুটি। এই ছুটিতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আগমন ঘটে কক্সবাজারে। সেই সঙ্গে আজ বিকেলে কক্সবাজার সৈকতের লাবনী পয়েন্টে বসে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে নানা ধর্ম-বর্ণের মানুষের মিলন মেলা। দুপুরের পর থেকে কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকা থেকে একে একে প্রতিমাবোঝাই ট্রাকগুলো আসতে থাকে লাবনী পয়েন্টের দিকে।
প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে সৈকতের লাবনী পয়েন্টের উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় বিসর্জন অনুষ্ঠান। এখানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিতে গিয়ে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ, এখানে সবাই বাংলাদেশি। সবাই যার যার মর্যাদা নিয়ে এদেশে বসবাস করছে। আমরা সবাই বাংলাদেশি, বাংলাদেশের মানুষ শান্তিতে বিশ্বাসী, আর সবাই সম্প্রীতির বিশ্বাসী।’
কক্সবাজার জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠুর সভাপতিত্বে বিসর্জন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী, সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শামীম আরা স্বপ্না, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান, টুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার নিশাত অ্যাঞ্জেলা, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল, প্রফেসর সোমেশ্বর চক্রবর্তী, হিন্দু কল্যাণের ট্রাস্টি ঝুলন ধরসহ অনেকেই।
টানা ছুটিতে কক্সবাজার সৈকতে ঘুরতে আসা বগুড়ার পর্যটক রহিমা আফরোজ বলেন, ‘পূজার ছুটিতে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসেছি কক্সবাজারে। আজকের এই দিনে দুর্গা বিসর্জনের অনুষ্ঠানটি দেখে খুবই ভালো লাগছে।’
নারায়ণগঞ্জ থেকে আসা পর্যটক সুমন, কলিম, পায়েল বলেন, এই বিসর্জনে দেখলাম সব ধর্ম বর্ণ মানুষের মিলনমেলা। পর্যটকদের জন্য একটি বাড়তি পাওয়া বিসর্জন অনুষ্ঠান।
চট্টগ্রামের রাউজান থেকে আসা পর্যটক বাবু কান্তি দে বলেন, ‘পূজাটা বাড়িতে করে বিসর্জনের জন্য এখানে ছুটে আসলাম। এত বড় বিসর্জন এই প্রথমবার দেখলাম। অনেক ভালো লাগছে।’
বিসর্জন উপলক্ষে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের লাবনীর পয়েন্ট বিকালের পর থেকে লোকে লোকারণ্য হয়ে যায়।
বিকেল ৫টায় বিসর্জন অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে নিরঞ্জনের মন্ত্র পাঠ করা হয়। মন্ত্র পাঠের পর ৫টা ৭ মিনিট থেকে একে একে প্রতিমা গুলো সৈকতে নিয়ে নিরঞ্জন দেওয়া শুরু হয়। অব্যাহত ছিল সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
কক্সবাজার জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু বলেন, এবারে কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকার ৫১টি মন্ডপের ২০৫টি প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান বলেন, পূজার ছুটি ও বিসর্জন উপলক্ষে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। প্রতিটি প্রতিমাকে নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সৈকতেই বিসর্জনের জন্য আনা হয়। পূজার শুরু থেকে পুরো মন্ডপ ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল।
টুরিস্ট পুলিশের পুলিশ সুপার নিশাত এঞ্জেলা বলেন, কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের পাশাপাশি বিসর্জন অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছিল টুরিস্ট পুলিশ। সৈকতের তিনটি পয়েন্টে ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন করা হয়েছিল আগের দিন। এসব ওয়াচ টাওয়ার থেকে বিসর্জন সহ পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি ক্যামেরা দিয়ে দেখা হয়।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিসর্জন অনুষ্ঠান যেন করা হয় সেজন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে কয়েকটি টিম গত দুদিন ধরে কাজ করছে। সব মিলিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে একটি বিসর্জন অনুষ্ঠান হয়েছে কক্সবাজারে। বিসর্জন অনুষ্ঠানটি দেশের সবচেয়ে বৃহত্তম বিসর্জন অনুষ্ঠান।
