রাত পোহালেই কোজাগরী লক্ষ্মীপুজো। কোজাগরী শব্দের অর্থ ‘কো জার্গতি’ অর্থাৎ কে রাতে জেগে রয়েছে। কথিত আছে, কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে নগর পরিক্রমায় বেরন দেবী লক্ষ্মী। যাঁকে জেগে থাকতে দেখেন, তাঁকে আশীর্বাদ করেন। তাঁকে বরদান করেন দেবী। ধনৈশ্বর্যে ভরে ওঠে সংসার। তবে এদিন শুধু পূজার্চনা করলেই হবে না। জেনে নিন কোন কোন কাজ করা উচিত নয়। আর কোন কাজ করলে মিলবে দেবীর আশীর্বাদ।
প্রথমেই জেনে নেওয়া যাক কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন কী কাজ করবেন:
- প্রতিমার মুখ পানপাতা দিয়ে ঢেকে উলুধ্বনি দিয়ে বাড়িতে আনুন।
- মা লক্ষ্মীকে লালবস্ত্র অর্পণ করুন।
- ভোগে ক্ষীর, ঘটস্থাপনে ক্ষীর ব্যবহার করুন।
- পুজোর সময় বাটিতে পানপাতা, সুপারি, হরিতকি, কড়ি ও কয়েন রাখুন।
- পুজো শেষে অবশ্যই লক্ষ্মীর পাঁচালি পড়ুন।
- পুজো করবেন মানে ধূপ, প্রদীপ তো তাতে ব্যবহার হবেই। কিন্তু যেখানে সেখানে নয়, পুণ্যার্জন করতে চাইলে ধূপ-দীপ রাখুন দেবী প্রতিমার ডানদিকে।
কোজাগরী লক্ষ্মীপুজোর দিন কোন কাজগুলি করা অনুচিত, একনজরে দেখে নিন:
- লক্ষ্মীপুজোয় সাধারণত কাঁসার কিংবা স্টিলের বাসনই ব্যবহার করুন। লোহার বাসন নৈব নৈব চ! কারণ, এই বাসন দিয়ে একমাত্র অলক্ষ্মী পুজোর কাজই করা হয়।
- লক্ষ্মীপুজোর উপাচারে তুলসী পাতা ভুলেও ব্যবহার করবেন না। কারণ, পুরান মতে বিষ্ণুর বিবাহ হয়েছিল তুলসী দেবীর সঙ্গে। তাই পুজোয় তুলসির ব্যবহার একেবারেই পছন্দ করেন না দেবী লক্ষ্মী।
- লক্ষ্মীকে কখনও সাদা ফুল দিয়ে পুজো করবেন না। পরিবর্তে লাল কিংবা গোলাপি রঙের ফুল দিন। তাতে আপনার গার্হ্যস্থ জীবন হয়ে উঠবে আরও সুখের।
- লক্ষ্মীপুজোয় ভুল করেও কাঁসর, ঘণ্টা বাজাবেন না।
- ভুলেও কালো কিংবা সাদা বস্ত্রের উপর লক্ষ্মীমূর্তি রাখবেন না। তার পরিবর্তে বেছে নিন অন্য যে কোনও রঙের বস্ত্র।
এই টোটকাগুলি মেনে চললেই আপনার সংসারে সমৃদ্ধি আসবেই।
