জামালপুরে শিশু ধর্ষণের দায়ে এক ইমামকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সাথে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুরে জামালপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত–১–এর বিচারক মুহাম্মদ আবদুর রহিম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি মো. মুছা মিয়া । তাঁর বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার হরিচণ্ডি গ্রামে। ২০২০ সালের ওই ঘটনার সময় তিনি দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার একটি গ্রামের মসজিদের ইমাম ছিলেন। মামলার নথি ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার সময় ভুক্তভোগী শিশুটির বয়স ছিল ১৫ বছর। সে প্রতিদিন সকালে ওই মসজিদে আরবি পড়তে যেত। ইমাম প্রায়ই অন্য শিশুদের ছুটি দিয়ে তাকে রেখে দিতেন এবং তাকে দিয়ে মসজিদ পরিষ্কারের কাজ করাতেন। একপর্যায়ে শিশুটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। ২০২০ সালের ২৮ নভেম্বর অন্যদিনের মতো অন্য শিশুদের ছুটি দিয়ে ভুক্তভোগী শিশুকে রেখে দেন ইমাম। পরে তিনি শিশুটিকে ধর্ষণ করেন এবং ঘটনাটি কাউকে জানাতে নিষেধ করেন। একই বছরের ১ ও ২ ডিসেম্বর আবারও শিশুটিকে তিনি ধর্ষণ করেন।
শিশুটির আচরণ ও মানসিক অবস্থার পরিবর্তন লক্ষ করেন পরিবারের সদস্যরা। পরে সে তাঁদের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়। পরিবার বিষয়টি গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানায়। তাঁদের পরামর্শে শিশুর মা বাদী হয়ে ২০২০ সালের ৮ ডিসেম্বর দেওয়ানগঞ্জ থানায় মামলা করেন।জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত–১–এর সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) ফজলুল হক প্রথম আলোকে বলেন, মামলায় ভুক্তভোগী শিশুসহ ১০ জনের সাক্ষ্য নিয়েছেন আদালত। শুনানিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়। পরে আদালত আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা শিশুটির পরিবারকে দিতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। রায়ের পর আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়।
The post ধর্ষণের দায়ে ইমামের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড appeared first on খবর, দিনের সর্বশেষ খবর - Diner Khabor.
