বরগুনা-২ আসনকে দেশের অন্যতম মডেল ও অপরাধমুক্ত নির্বাচনী এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম মনি। এ লক্ষ্য অর্জনে উন্নয়ন, জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে বিশেষ মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়নের কথা জানিয়ে তিনি বলেছেন, এ অঞ্চলের মানুষ যে ধরনের উন্নয়ন ও নিরাপত্তার কথা কখনো কল্পনাও করেনি, তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আগামী দুই মাসের মধ্যে সব ধরনের অপরাধ নির্মূলে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুরে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন চিফ হুইপ।
সভায় পাথরঘাটার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কঠোর অবস্থান তুলে ধরে নুরুল ইসলাম মনি বলেন, কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলদারির কোনো স্থান পাথরঘাটায় থাকবে না। আগামী দুই মাসের মধ্যে এসব অপরাধ সমূলে নির্মূল করতে হবে। অপরাধ দমনে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের জবাবদিহির ওপর গুরুত্বারোপ করে চিফ হুইপ বলেন, 'পাথরঘাটায় হয় চাঁদাবাজ থাকবে, না হয় ওসি থাকবে।' তার এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অপরাধ দমনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কঠোর অবস্থান নেওয়ার বার্তা স্পষ্ট হয়েছে। তিনি আরও বলেন, একজন অপরাধীরও এখানে ঠাঁই হবে না।
বরগুনা-২ আসনকে মডেল এলাকায় পরিণত করার ঘোষণার তাৎপর্য কেবল অবকাঠামোগত উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জননিরাপত্তা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে বসবাস ও জীবিকা নির্বাহের পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রশ্নও জড়িত। বিশেষ করে মৎস্যনির্ভর উপকূলীয় জনপদ পাথরঘাটায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে অপরাধ নির্মূলের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি অপরাধের উৎস চিহ্নিত করা, মাদক ব্যবসার নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া, চাঁদাবাজি ও অবৈধ দখলদারির অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে আইন প্রয়োগের প্রতিটি পদক্ষেপে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচার বজায় রাখাও অপরিহার্য।
মতবিনিময় সভা শেষে চিফ হুইপ পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদ চত্বরে নবনির্মিত সালামি মঞ্চ এবং সংসদ সদস্যদের জন্য নির্মিত বিশেষ পরিদর্শন কক্ষ উদ্বোধন করেন।
পরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে উপজেলার ৪৫টি পূজামণ্ডপের প্রতিটিতে তার নিজস্ব তহবিল থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ এবং সরকারি বরাদ্দের এক টন করে চাল বিতরণ করা হয়। এ হিসাবে পূজামণ্ডপগুলোতে মোট নগদ অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা এবং চালের পরিমাণ ৪৫ টন।
এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ তিন জেলের পরিবারের সদস্যদের হাতে ৫০ হাজার টাকা করে মোট ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন তিনি।
উন্নয়ন পরিকল্পনা, অপরাধ দমনে কঠোর নির্দেশনা এবং ধর্মীয় উৎসব ও দুর্যোগকবলিত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর এসব উদ্যোগের মধ্য দিয়ে বরগুনা-২ আসনে জননিরাপত্তা ও জনকল্যাণকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে। এখন ঘোষিত মাস্টারপ্ল্যানের কার্যকর বাস্তবায়ন, অপরাধ দমনে দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই মডেল ও অপরাধমুক্ত আসন গড়ার অঙ্গীকারের সাফল্য মূল্যায়িত হবে।
