নবীগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে লন্ড্রির ছোট ব্যবসা করে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছেন অরুণ শব্দকর। মানুষের ব্যবহৃত কাপড় ধোয়া ও ইস্ত্রি করে মাসে আট থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করেন তিনি। এ সামান্য আয় দিয়ে স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাঁকে। অভাবের কারণে পরিবারের চাহিদামতো খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
অরুণ শব্দকর নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাক ইউনিয়নের দরবেশপুর গ্রামের মৃত কানু শব্দকরের ছেলে। প্রায় ১১ বছর ধরে আউশকান্দি বাজারে তিন হাজার টাকা মাসিক ভাড়ায় একটি ছোট দোকানে লন্ড্রির ব্যবসা করছেন তিনি।
অরুণ শব্দকর জানান, বাজারের বিভিন্ন দোকান থেকে কাপড় সংগ্রহ করে ধোয়া ও ইস্ত্রি করে যা আয় হয়, তা দিয়েই পরিবারের ভরণপোষণ চালান। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রায়ই আর্থিক সংকটে পড়তে হয় তাঁকে। ইতিমধ্যে ৩০ হাজার টাকা ঋণও করেছেন তিনি।
প্রতিবেশীদের ভাষ্য, অরুণ শব্দকরের একটি মেয়ে বিয়ের উপযুক্ত বয়সে পৌঁছেছে। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পরিবারের প্রয়োজন মেটানোই তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহ সুলতান আহমদ বলেন, তাঁর জানামতে অরুণ শব্দকর একজন দরিদ্র মানুষ। লন্ড্রির ব্যবসা করেই তাঁর সংসার চলে।
দীঘলবাক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. ছালিক মিয়া বলেন, অরুণ শব্দকর লন্ড্রির ব্যবসা করে সংসার চালান, এ বিষয়ে তিনি আগে অবগত ছিলেন না। সরকারি সহায়তা চেয়ে তিনি কখনো আবেদনও করেননি। আবেদন করলে সুযোগ ও সামর্থ্য অনুযায়ী তাঁর পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবেন বলে জানান চেয়ারম্যান।
