ফরিদপুরে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পৃথক দুটি স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে এক মা ও তার শিশুসন্তান এবং ‘ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ’-এর ৩ স্বেচ্ছাসেবী রয়েছেন। দুর্ঘটনা দুটিতে আহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর সোয়া ৩টার দিকে মধুখালী উপজেলার আড়কান্দি সেতু এলাকায় বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ স্বেচ্ছাসেবী নিহত হন। এর প্রায় ১৫ মিনিট পর ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা এলাকায় বালুবোঝাই ট্রাকের চাপায় মা-ছেলেসহ আরও ৩ জন নিহত হন।
শুক্রবার দুপুর সোয়া ৩টার দিকে মধুখালী উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের আড়কান্দি সেতুর কাছে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা ‘ভলান্টিয়ার ফর বাংলাদেশ’ মাগুরা টিমের ৩ সদস্য নিহত হন। এ ঘটনায় আরও ৩ জন আহত হন।
নিহতরা হলেন— রাব্বি মোল্লা (২০), নূর মোহাম্মদ ওরফে আরিক (২৯) এবং ঐশী খাতুন (২৫)। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মো. সাগর বিশ্বাস (২২), মো. জয় শেখ (২৩) ও রিয়া খাতুন (১৯)। তারা সবাই মাগুরা সদর উপজেলার বাসিন্দা।
জানা গেছে, ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট এলাকায় ব্যুরো বাংলাদেশের কার্যালয়ে জাগো ফাউন্ডেশনের ‘সমতায় তারুণ্য’ প্রকল্পের একটি সেমিনারে অংশ নিতে মাগুরা থেকে স্বেচ্ছাসেবীদের একটি দল এসেছিল। সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১টা পর্যন্ত চলা প্রশিক্ষণ শেষে মাগুরায় ফেরার জন্য বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বাস না পেয়ে তারা একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
পথে মধুখালীর আড়কান্দি সেতুর কাছে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা পূর্বাশা পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়েমুচড়ে যায়।
মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আল আমিন জানান, দুর্ঘটনার পর ৬ জনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে ৩ জনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। বাকি ৩ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে গুরুতর অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সালাম জানান, আহত ৩ জন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও অ্যাম্বুলেন্স জব্দ করা হয়েছে। নিহতদের মরদেহ করিমপুর হাইওয়ে থানায় রয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ৩টার দিকে ফরিদপুর সদরের কানাইপুর ইউনিয়নের তেঁতুলতলা এলাকায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি বালুবোঝাই ট্রাক, একটি ইজিবাইক ও একটি প্রাইভেটকারকে চাপা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে মা, তার শিশুসন্তান এবং ইজিবাইক চালক নিহত হন।
নিহত মা-ছেলে হলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের পলাশ মিয়ার স্ত্রী সুমি বেগম (৩২) ও তার ৭ বছর বয়সী ছেলে শাওন। আর নিহত ইজিবাইক চালকের বয়স আনুমানিক ২৭ বছর। তবে তার নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সুমি বেগমের পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় থাকেন। তারা মাগুরায় সুমির বাবার বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। সেখান থেকে ঢাকায় ফেরার জন্য বাসের টিকিট না পেয়ে পরিবারের ৬ সদস্য একটি ইজিবাইকে করে ফরিদপুর বাসস্ট্যান্ডের দিকে যাচ্ছিলেন।
তেঁতুলতলা এলাকায় পৌঁছালে ফরিদপুরের দিক থেকে আসা একটি বালুবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইজিবাইক ও একটি প্রাইভেটকারের ওপর আছড়ে পড়ে। এতে ইজিবাইকের ২ যাত্রী ও চালক নিহত হন। আহত হন ইজিবাইক ও প্রাইভেটকারে থাকা আরও ৬ জন। তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শ্রীবাস বাড়ৈ জানান, ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ইজিবাইকের পাশাপাশি একটি প্রাইভেটকারও চাপা পড়ে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বালুর নিচে চাপা পড়া ইজিবাইক চালককে প্রায় ১ ঘণ্টার চেষ্টায় মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
করিমপুর হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরিফুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনায় জড়িত ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।
জহির হোসেন/এমএমবি
