Published on
:
2 min read
কথায় বলে, ‘বাপ কা বেটা’। কিন্তু রাহুল দ্রাবিড়ের ছেলে অন্বয় দ্রাবিড় (Anvay Dravid) এবং বীরেন্দ্র সেওয়াগের ছেলে আর্যবীর সেওয়াগ (Aryaveer Sehwag) সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স দেখলে সেই কথার সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন। ভারতীয় ক্রিকেটের দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটারের ছেলের মুখোমুখি লড়াই দেখা গেল ভিনু মানকড় ট্রফির (Vinoo Mankad Trophy) একদিনের ম্যাচে।
১২ অক্টোবর অনূর্ধ্ব-১৯ এলিট গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল কর্নাটক ও দিল্লি। কর্নাটকের হয়ে খেলেছেন অন্বয় দ্রাবিড়। অন্য দিকে, দিল্লির অধিনায়ক ছিলেন আর্যবীর সেওয়াগ। তবে মাঠে বাবাদের খেলার ধরন নয়, দুই ছেলের ব্যাটিংয়ে দেখা গেল ঠিক উল্টো ছবি। ওই যে বাংলায় আরও একটি প্রবাদ রয়েছে,
বাবাদের থেকে একেবারে আলাদা অন্বয় ও আর্যবীরের খেলা
ভারতীয় ক্রিকেটে রাহুল দ্রাবিড় (Rahul Dravid) কখনওই দ্রুত গতিতে রান তোলার জন্য পরিচিত ছিলেন না। অন্য দিকে, বীরেন্দ্র সেওয়াগের (Virender Sehwag) বিশেষত্বই ছিল যে কোনও ফরম্যাটে আগ্রাসী ব্যাটিং করে স্কোরবোর্ডে ঝড় তোলা। কিন্তু বিনু মানকড় ট্রফিতে তাঁদের ছেলেদের লড়াইয়ে দেখা গেল উল্টো ছবি।
এখানে ঝোড়ো ব্যাটিং করলেন দ্রাবিড়-পুত্র অন্বয়। অন্য দিকে, ব্যাট হাতে তেমন আগ্রাসী মেজাজে দেখা গেল না সেওয়াগ-পুত্র আর্যবীরকে। দুই ক্রিকেটারের ব্যাটিংয়ের প্রভাব পড়ল দলের ফলেও। অন্বয়ের বিধ্বংসী ইনিংসের সৌজন্যে আর্যবীরের নেতৃত্বাধীন দিল্লিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে দিল কর্নাটক।
একা অন্বয়ের মারা ছক্কার সমান ছক্কা দিল্লির গোটা দলের
প্রথমে ব্যাট করে ৪৯ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ৪১৮ রান তোলে কর্নাটক। দলকে এই বিশাল রানে পৌঁছে দিতে বড় ভূমিকা নেন অন্বয় দ্রাবিড়। ২০৭ স্ট্রাইক রেটে ব্যাট করে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন তিনি। শুধু তাই নয়, একাই যতগুলি ছক্কা মারেন অন্বয়, দিল্লির গোটা দল মিলেও সেই সংখ্যায় পৌঁছতে পারেনি।
৪১ বলে অপরাজিত ৮৫ রান অন্বয়ের
কর্নাটক অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে মাত্র ৪১ বলে অপরাজিত ৮৫ রান করেন অন্বয় দ্রাবিড়। তাঁর বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ৫টি ছক্কা ও ৭টি চার। কর্নাটকের ইনিংসে মোট ২২টি ছক্কা হয়, যার মধ্যে ৫টি আসে অন্বয়ের ব্যাট থেকে। অন্বয় অপরাজিত ৮৫ রান করলেও কর্নাটকের হয়ে শতরান করেন আরও দুই ব্যাটার নীতিন আর্য (Nitin Arya) এবং ধ্রুব কৃষ্ণন (Dhruv Krishnan)। তাঁদের শতরানের সুবাদেই দিল্লির সামনে ৪১৯ রানের বিশাল লক্ষ্য রাখে কর্নাটক।
ব্যাট হাতে আগুন ঝরাতে পারলেন না আর্যবীর সেওয়াগ
বিশাল রান তাড়া করতে নেমে দিল্লির ইনিংসের শুরু করেন বীরেন্দ্র সেওয়াগের ছেলে আর্যবীর। কিন্তু ৩৫ বল খেলে মাত্র ৩২ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসে একটিও ছক্কা ছিল না। আর্যবীরের ব্যাটিংয়ে আগ্রাসনের অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। আর্যবীরের নেতৃত্বে খেলা দিল্লি অনূর্ধ্ব-১৯ দল গোটা ইনিংসে মাত্র ৫টি ছক্কা মারতে পারে।
অর্থাৎ, কর্নাটকের হয়ে একা অন্বয় দ্রাবিড় যতগুলি ছক্কা মেরেছেন, দিল্লির গোটা দল মিলেও ততগুলিই ছক্কা মেরেছে। দুই দলের ছক্কা মারার এই পার্থক্যও ম্যাচের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
১৯৮ রানে হার আর্যবীরের দিল্লির
৪১৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪১.১ ওভারে ২২০ রানে অলআউট হয়ে যায় দিল্লি। ফলে ১৯৮ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় কর্নাটক অনূর্ধ্ব-১৯ দল। এক দিকে অন্বয়ের ঝোড়ো ব্যাটিং, অন্য দিকে আর্যবীরের ব্যাট হাতে নিষ্প্রভ পারফরম্যান্স— দুই দলের ফলাফলে তারই স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেল।