ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হলে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, সরকারি বরাদ্দে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত এবং নিয়োগে দলীয়করণ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন জামায়াত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থিত জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য দেলাওয়ার হোসেন বলেছেন, আগামী ২৯ অক্টোবরের নির্বাচনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক বিজয়ী হলে ঠাকুরগাঁওয়ে একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা হবে।
তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা জরুরি হলেও অতীতে কোনো সংসদ সদস্যকে এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা মানুষের মৌলিক অধিকারের অন্তর্ভুক্ত হলেও এসব অধিকার প্রতিষ্ঠায় অতীতের সংসদ সদস্যদের কোনো পদক্ষেপ ছিল না। আগামীতে তাঁদের অনুসারীরা জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে অধিকার কেড়ে নেবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ভুল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের কাঁঠালতলী বাজারে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে নিজেদের অধিকার বুঝে নেওয়ার জন্য স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান জানান।
দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “আমাদের লড়াই হচ্ছে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই। আমরা সমাজ থেকে বৈষম্য দূর করে একটি মানবিক ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, যেখানে দুর্নীতি, অনিয়ম ও দলীয়করণ থাকবে না।”
নির্বাচিত হলে সরকারি বরাদ্দের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দের একটি পয়সাও তছরুপ করতে দেওয়া হবে না এবং কোনো বরাদ্দে দলীয়করণ করা হবে না। রাষ্ট্রীয়ভাবে যা বরাদ্দ দেওয়া হবে, তা ডিজিটাল বোর্ডের মাধ্যমে প্রচার করে জনগণকে জানানো হবে। বরাদ্দের টাকা কোথায় ও কীভাবে খরচ করা হবে, সেটিও জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
তিনি আরও বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে সরকারি নিয়োগে কোনো ধরনের দলীয়করণ হতে দেওয়া হবে না। যোগ্য প্রার্থী যে দলের বা মতেরই হোন না কেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে তিনি নিয়োগ পাবেন। দলমত, ধর্মবর্ণ ও জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে সমাজের প্রতিটি মানুষ সরকারি সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে পাবেন। অতীতে সংসদ সদস্যদের ক্ষেত্রে সরকারি বরাদ্দ দলীয় বিবেচনায় বণ্টন করতে দেখা গেছে। কিন্তু ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা বিজয়ী হলে জনগণের বিজয় হবে এবং সবার সমান অধিকার নিশ্চিত হবে।
সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদক কারবারিদের নেতৃত্বে সমাজে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয় উল্লেখ করে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, যারা সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজদের লালন-পালন করে এবং মাদক ও অস্ত্রের রাজনীতি করে, তাদের নেতৃত্বে জনগণ বারবার শোষিত হয়েছে। আগামীতে শোষণ থেকে মুক্তির জন্য ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিয়ে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত ঠাকুরগাঁও গড়তে তিনি স্থানীয়দের সহযোগিতা ও সমর্থন কামনা করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান বলেন, যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে পরে গণভোটের রায় মেনে নেয়নি এবং নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করে নির্বাচনের পর বলেছে, ওই প্রতিশ্রুতি ছিল নির্বাচনের বৈতরণি পার হওয়ার জন্য—তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আগামী ২৯ অক্টোবর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে ব্যালটের মাধ্যমে বিএনপিকে সেই প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতার জবাব দিতে তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।
আউলিয়াপুর ইউনিয়ন সভাপতি মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি রাকিবুল ইসলাম মিলুর পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও জেলা এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক এ কে এম শামসুল ইসলাম। এ সময় স্থানীয় ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
