দুর্গাপূজায় পাঁচ দিনের ছুটিতে অনেকেই রাজধানী ছেড়ে গ্রামে গেছেন। রাজধানীর ঢাকার রাস্তাঘাট এখন অনেকটাই ফাঁকা। ছুটির প্রভাব পড়েছে বাজারগুলোতেও। অধিকাংশ বাজারে ক্রেতাদের উপস্থিতি কম। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা এবং খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, পাইকারি থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায়েও বেচা-কেনা কমে গেছে। কারও কারও তা অর্ধেকে নেমে গেছে। সবজি পচনশীল পণ্য হওয়ায় বিক্রেতারা আটকে রাখতে পারছেন না। চাহিদা কমে যাওয়ায় কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে ছোলা, বুটের ডাল ও অ্যাংকর ডালের দাম কেজিতে বেড়েছে ১০ টাকা। মাংস, ডিম, মাছ আগের মতো উচ্চ মূল্যে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় অনেক জিনিসের দাম আগেই বেড়ে গেছে। তাই বেচা-কেনা কমলেও এসব পণ্য কম দামে বিক্রি করা সম্ভব না। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে ২০ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের সরকারি ছুটি চলছে। রাজধানীর মোহাম্মদপুরের টাউন হল বাজারে গতকাল দুপুরে দেখা যায়, মাছ, মাংস, সবজি থেকে শুরু করে মুদির দোকানেও ক্রেতাদের উপস্থিতি অনেক কম। ঘুম ঘুম ভাব নিয়ে অনেক বিক্রেতা দোকানে বসে আছেন।
বিক্রির ব্যাপারে জানতে চাইলে এই বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. আলমগীর খবরের কাগজকে বলেন, ‘পূজার ছুটি চলছে, লম্বা ছুটি। অনেকেই বাড়ি গেছেন। পরিচিত কাস্টমার (ক্রেতা) দেখা যাচ্ছে না। এ জন্য বেচা-কেনা নেই। তাই দাম কিছুটা কমেছে। কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা কমেছে। কয়েক দিন আগে তাল বেগুন (গোল) ১৬০ টাকা কেজি, সবুজ গোল বেগুন ১৪০ টাকা ও লম্বা বেগুন ১০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। বর্তমানে এসব বেগুন ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। ২০০ টাকার কাঁচা মরিচ ১৪০-১৬০ টাকা, ১৪০-১৬০ টাকার শিম ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এভাবে সব সবজি কমদামে বিক্রি করা হচ্ছে। কাঁচা সবজি ধরে রাখা যায় না। চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম কমেছে।’ এই বাজারের অন্য বিক্রেতারাও জানান, গাজর ১২০-১৪০ টাকা কেজি, শসা ৭০-১০০, ঝিঙে, ধুন্দল ৭০-৮০, ঢ্যাঁড়স ৬০-৮০, পটোল ৬০-৮০, কাঁচা পেঁপে ২০-৩০, ফুলকপি ৬০-৭০ টাকা পিস, লাউ ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে এসব সবজি কারওয়ান বাজারে আরও কিছু কম দাম বিক্রি করতে দেখা যায়। বিক্রেতারা জানান, কাছেই পাইকারি বাজার, সেখান থেকে কেনা। তাই অন্য বাজারের তুলনায় এখানে কম দামে বিক্রি করা হচ্ছে। কারওয়ান বাজারে এক সবজির দোকানে মো. মনির হোসেন নামে এক ক্রেতা খবরের কাগজকে বলেন, ‘পটোল, বেগুনসহ আরও কয়েক পদের সবজি কিনলাম, তা আগের তুলনায় কম দামে কিনলাম। ক্রেতা কম। এ জন্য হয়তো দাম কমেছে।’
আরও পড়ুন
উচ্চ মূল্যেই ডিম মাছ মাংস বিক্রি
পূজার লম্বা ছুটিতে চাহিদা কমলেও যেসব পণ্য পচনশীল নয়, সেসবের দাম কমেনি। ডিমের বাজারে নেই স্বস্তি। চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। আগের মতো গতকালও বিভিন্ন বাজারে ১৫০-১৬০ টাকা ডজন ও ৪৮-৫৪ টাকা হালি ডিম বিক্রি হয়। গত সপ্তাহের মতো গতকালও ব্রয়লার ১৮০-২০০ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি ৩১০-৩৪০ টাকা, গরুর মাংস ৭৮০-৮০০ টাকা, খাসির মাংস ১২৫০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে দেশি মুরগির দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমে ৫৫০-৫৮০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। এ ব্যাপারে হাতিরপুল বাজারের মুরগি বিক্রেতা মো. রুহুল কুদ্দুস খবরের কাগজকে বলেন, ‘আগে দাম উঠা-নামা করলেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর মুরগির বাজার চড়ে গেছে। আর কমে না। বাড়তি দর স্থির হয়ে গেছে। দাম বেশি হওয়ায় বিক্রিও কমে গেছে।’ নিউ মার্কেটের খুচরা বিক্রেতারাও একই তথ্য জানান।
ইলিশ মাছ ধরা ও বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা থাকায় অন্য মাছও চড়া দামে বাজারে বিক্রি হচ্ছে। ‘গরিবের পাঙাশ’ও ২৮০-৩০০ টাকা কেজি। তেলাপিয়া ২৮০-৩২০ টাকার কমে পাওয়া যায় না। এ ছাড়া রুই, কাতলার কেজি ৩৬০-৫৫০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০-৯০০, পাবদা ৪০০-৬০০, চিংড়ি ৭০০-১৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
গতকালও মানভেদে পেঁয়াজ ৫০-৬০ টাকা কেজি, আলু ২৫-৪০ টাকা, রসুন ১৫০-১৮০, আদা ১৪০-১৯০, চিনি ১১০ টাকা, বড় দানার মসুর ডাল ৮২ টাকা কেজি, মাঝারি দানার ডাল ১৩৫ ও ছোট দানার মসুর ডাল ১৫৫ টাকা, বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৪ টাকা লিটার বিক্রি হচ্ছে। তবে ছোলা, বুটের ডাল ও অ্যাংকর ডালের দাম কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে।
পাইকারি বাজারেও এসব ডালের দাম বেড়েছে। তবে বিক্রি কমেছে। এ ব্যাপারে কৃষি মার্কেটের পাইকারি বিক্রেতা মেসার্স সিটি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. আবু তাহের খবরের কাগজকে বলেন, ‘পাইকারিতেই ৯৪ টাকার ছোলা ১০২ টাকা হয়ে গেছে। এভাবে ৯৮ টাকার বুটের ডাল ১১০ টাকা, ৪৪ টাকা দরের অ্যাংকর ডাল ৫৮ টাকা হয়ে গেছে। পামঅয়েলের দামও বেড়েছে। তাই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে আগের তুলনায় বিক্রি একেবারে কমে গেছে।’
বিক্রি কমছে কেন? এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর সব কিছুর দাম বাড়ছে। ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে দাম। টাকা থাকছে না। এ জন্য মানুষ কম কিনছেন।’
আগের মতো গতকালও বিভিন্ন বাজারে চড়া দামে সরু (মিনিকেট) চাল ৭৫-৮৫ টাকা কেজি, মাঝারি চাল ৫৫-৬০, মোটা চাল ৫০-৫২ টাকা, পোলাওয়ের চাল ১৮০-২০০ টাকা ও প্যাকেটজাত পোলাওয়ের চাল ২৩০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, নতুন ধান না উঠলে চালের দাম আর কমবে না।
