মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজোর ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বরংগাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সেলফি পরিবহনের একটি বাসের চাপায় অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন। দুর্ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা বাস ভাঙচুর করে মহাসড়ক অবরোধ করলে তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসকের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেয় আন্দোলনকারীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেনÑ ঘিওর উপজেলার মৌহালি গ্রামের তাহাজের ছেলে মো. ইয়াছিন (২১) এবং একই গ্রামের মো. মোজাহারের ছেলে বাবুল (২৮)। ইয়াছিন ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং বাবুলকে সদর হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। আহত অন্য তিনজনকে একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ঢাকা থেকে পাটুরিয়াগামী সেলফি পরিবহনের দ্রুতগতির একটি বাস বাইপাস সড়ক থেকে মহাসড়কে উঠতে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই এক যাত্রী নিহত হন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা বাসটি ভাঙচুর এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা তিন ঘণ্টা মহাসড়ক অবরুদ্ধ থাকায় উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। শিবালয় থানার পুলিশ ও বরংগাইল হাইওয়ে থানার পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালায়।
পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং মহাসড়কে সেলফি পরিবহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আশ্বাস দেন। তার আশ্বাসে বিক্ষোভকারীরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হয়।
এ বিষয়ে বরংগাইল হাইওয়ে থানার ওসি মো. হারুন অর রশীদ জানান, ঘাতক বাসটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, দুর্ঘটনার বিষয়ে বাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সেই সময় পর্যন্ত ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সেলফি পরিবহন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
