সবাই যখন নিজের স্বপ্নপূরণের জন্য ছুটছে, তখন একদল তরুণ কাজ করছে অন্যের স্বপ্নপূরণে। কোনো শিশু শিখছে জীবনের প্রথম অক্ষর, কোনো রোগী ফিরে পাচ্ছেন বেঁচে থাকার আশা, আবার কোথাও মাটি ফুঁড়ে বেড়ে উঠছে নতুন চারা। এসব উদ্যোগের পেছনে রয়েছে একদল তরুণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ক্যাম্পাস থেকে যাত্রা শুরু করা এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নাম ‘চলো পাল্টাই ফাউন্ডেশন, নোবিপ্রবি’।
নিজেদের পড়াশোনার ব্যস্ততার মধ্যেও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর তাগিদ থেকে ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল যাত্রা শুরু করে সংগঠনটি। শিক্ষা, চিকিৎসা, সামাজিক সচেতনতা, সুবিধাবঞ্চিত শিশু, দুর্যোগ মোকাবিলা ও পরিবেশ– এই ছয়টি ক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে কাজ করছে তারা। বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় মানুষের আস্থা অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংগঠনটি।
২০১৮ সালে শীতার্ত ও অসচ্ছল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া কার্যক্রম এখনো অব্যাহত রয়েছে। পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংগঠনটি। পাশাপাশি রক্তদান, সচেতনতামূলক সভা ও প্রচারের আয়োজন করছে। দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত সহপাঠীদের চিকিৎসার জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায়ও এগিয়ে এসেছে তারা।
সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চাতেও গুরুত্ব দিচ্ছে সংগঠনটি। বিভিন্ন জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয় আবৃত্তি ও ছোটগল্প প্রতিযোগিতা। স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য থাকে চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন। এ ছাড়া ক্যাম্পাস পরিচ্ছন্ন রাখা এবং বৃক্ষরোপণের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবেশ সংরক্ষণেও ভূমিকা রাখছে তারা।
বর্তমানে সংগঠনটির সভাপতি মো. নুরুন নবী ও সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল্লাহর নেতৃত্বে প্রায় ১০০ জন সক্রিয় সদস্য কাজ করছেন। সদস্যদের মাসিক চাঁদা, ক্রাউডফান্ডিং এবং প্রাক্তন সদস্য ও উপদেষ্টামণ্ডলীর অনুদান থেকে সংগঠনটির কার্যক্রমের অর্থায়ন করা হয়।
তবে কার্যক্রম পরিচালনায় অর্থসংকট বড় চ্যালেঞ্জ। সীমিত অনুদানদাতা ও পর্যাপ্ত পৃষ্ঠপোষকতার অভাবেও বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নে বাধার মুখে পড়তে হয় সংগঠনটিকে।
সংগঠনটির সভাপতি মো. নুরুন নবী বলেন, ‘অর্থসংকট, সীমিত অনুদানদাতা ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাব আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এর পরও আমরা ক্যাম্পাসের গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে এই কার্যক্রম সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়াই আমাদের প্রত্যাশা।’
মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলা এই তরুণদের উদ্যোগ দেখিয়ে দেয়, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা হতে পারে।
