গত ৪ অক্টোবর ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে সরকার। কিন্তু এরপর বিশদিন পেরিয়ে গেলেও চট্টগ্রামে সরকার নির্ধারিত দামে কোথাও দেখা নেই এলপিজি গ্যাসের।
খুচরা পর্যায়ে দাম রাখা হচ্ছে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ টাকা বেশি। এমন দাম বাড়তি অবস্থাই শুধু নয়, সংকট আছে গ্যাসের সরবরাহেও। অনেক দোকানেই মিলছে না পর্যাপ্ত গ্যাস। কোথাও দোকানের সামনে গ্যাস সিলিন্ডার সাজিয়ে রাখলেও বোতল খালি।
কয়েকজন ক্রেতা বলেন, আমরা একটি গ্যাসের বোতল যদি ২২০০-২৩০০ টাকা দিয়ে কিনি, তাহলে বাকি খরচ কিভাবে করব। সব দোকানদার মিলে যদি সেল করে, তাহলে বাধ্য হয়েই কিনতে হয়। যারা ব্যবসায়ী আছে, তারা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দামটা বাড়ায় ফেলছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান বা ডিলারদের কঠিন সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি তারা। দাম বেশির ব্যাপারে প্রতিবাদ করলে গ্যাস দেয়া বন্ধ করে দেয় ডিলাররা। বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করলেও দেয়া হয় না রশিদ। ফলে প্রশাসনের অভিযানে ক্রয় রশিদ দেখাতে না পেরে বিপাকে পড়তে হয় তাদের।
তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের দাবি ভিন্ন। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশিতে গ্যাস বিক্রির বিষয়টি স্বীকার করলেও বিক্রয় রশিদ প্রদানে কোনো অনিয়ম করেন না বলে দাবি তাদের।
ওমেরার একজন ডিস্ট্রিবিউটর ফাহিম আহমেদ বলেন, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কমে বিক্রি হয়। অনেকটা চ্যারিটি করতেছি, সোজা হিসাব।
গ্যাসের দামে এমন নৈরাজ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষের গাফলতিকে দুষছেন ভোক্তা প্রতিনিধিরা।
ক্যাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন বলেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে এখানে কাজে লাগানোর জন্য যদি ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তাহলে কিন্তু খাদ্য সংকটের চেয়ে আরও বড় সংকটে পরিণত হবে। কারণ এখন অধিকাংশ মানুষ এলপিজির ওপর নির্ভরশীল হয়ে গেছে।
সিলিন্ডার গ্যাসের বাজারে দামের এই নৈরাজ্যে দ্রুত লাগার টানার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তারা।
