যুক্তরাজ্যের (ব্রিটেন) ঐতিহ্যবাহী ও বিশ্বখ্যাত বেশ কিছু অভিজাত স্কুল এবং উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিশ্ববিদ্যালয়) বর্তমানে ভারতে তাদের স্থায়ী ক্যাম্পাস স্থাপন করছে। আগে ব্রিটিশ স্কুলগুলোর প্রধান লক্ষ্য ছিল চীন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে, চীনের ভূ-রাজনীতি এবং সেখানে চীনা ভাষায় শিক্ষার কড়াকড়ির কারণে ব্রিটিশ স্কুলগুলো এখন ভারতের দিকে ঝুঁকছে।
অন্যদিকে, ভারতে একটি বিশাল শ্রেণি তৈরি হয়েছে, যারা সন্তানদের আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা দিতে অর্থ খরচ করতে প্রস্তুত। ফলে শিক্ষার্থীরা নিজ দেশে বসেই অনেক কম খরচে বিশ্বমানের ব্রিটিশ ডিগ্রি লাভ করতে পারছেন। ভারতের সিলিকন ভ্যালিখ্যাত বেঙ্গালুরুতে কার্যক্রম চালানো লন্ডনের হ্যারো স্কুলের প্রধান ক্যারোলিন প্যাসকো বলেছেন, আমাদের আন্তর্জাতিক পাঠ্যক্রম তাদের অনেকের জন্য একটি বড় চালিকাশক্তি।
ভারতে ক্যাম্পাস স্থাপন করা সর্বশেষ ব্রিটিশ স্কুল হলো বেডফোর্ড স্কুল। পাঞ্জাবের মোহালিত কার্যক্রম পরিচালনা করা বেডফোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, চীনে ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রাইভেট স্কুলের ওপর নতুন করে ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে, ফলে সেখানে কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
২০২৩ সাল থেকে ভারতের ‘সিলিকন ভ্যালি’— অর্থাৎ সফটওয়্যার ও স্টার্টআপ কোম্পানিগুলোর কেন্দ্রস্থল বেঙ্গালুরুতে — প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিখ্যাত হ্যারো স্কুল। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এই স্কুলেই পড়াশোনা করেছিলেন। মধ্য ভারতের ভোপালে রয়েছে শ্রুসবারি স্কুলের একটি ক্যাম্পাস। অন্যদিকে, ওয়েলিংটন কলেজ তাদের কার্যক্রম শুরুর জন্য বেছে নিয়েছে পুনে শহরকে; পশ্চিম ভারতের এই শহরটি তার সুসজ্জিত বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোর সুবাদে ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ হিসেবে পরিচিত।

এছাড়া, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে মিলফিল্ড, কুইন এলিজাবেথ’স স্কুলসহ আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ভারতে তাদের শাখা ক্যাম্পাস খুলতে যাচ্ছে বলেও শোনা যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকটি অভিজাত ও নামিদামি স্কুল এরইমধ্যে ভারতে তাদের ক্যাম্পাস স্থাপন করেছে। এগুলো হলো-
বেডফোর্ড স্কুল : পাঞ্জাবের মোহালিতে তাদের নতুন আন্তর্জাতিক ক্যাম্পাস স্থাপন করেছে।
কুইন এলিজাবেথ স্কুল : ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে গুরুগ্রামে এই ঐতিহাসিক স্কুলের শাখা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
হ্যারো স্কুল : ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুর স্মৃতিবিজড়িত এই বিখ্যাত ব্রিটিশ স্কুলটি ২০২৩ সালে ব্যাঙ্গালোরে তাদের ক্যাম্পাস চালু করেছে।
শ্রুসবারি স্কুল : ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ভারতের ভোপালে তাদের প্রথম ব্যাচের ক্লাস শুরু করেছে।
কয়েক দশক ধরেই ভারতে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ‘পাবলিক স্কুল’ পদ্ধতির আদলে গড়ে ওঠা বেশ কিছু স্থানীয় বোর্ডিং স্কুল রয়েছে, যা মূলত অভিজাত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তানদের জন্য পরিচালিত হয়। তবে বর্তমানে এই বাজারের পরিধি দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে, কারণ ভারতীয় নতুন ধনী পরিবারগুলো তাদের সন্তানদের আরও বেশি বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

হ্যারো এবং বেডফোর্ড ভারতে ব্রিটিশ সেই হাতেগোনা কয়েকটি স্কুলের মধ্যে অন্যতম, যারা প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে ‘এ-লেভেল’ পর্যন্ত সম্পূর্ণ শিক্ষাক্রমে কেমব্রিজ পাঠ্যক্রম অনুসরণ করে। উল্লেখ্য, কেমব্রিজের এই শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বজুড়ে ১০ হাজারেরও বেশি স্কুলে স্বীকৃত।
এদিকে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক ‘প্রাইভেট এডুকেশন পলিসি ফোরাম’ (পিইপিএফ)-এর ২০২৫ সালের একটি গবেষণা অনুযায়ী, নিয়মকানুন পরিবর্তনের পাশাপাশি জাতীয় সরকারগুলোর পক্ষ থেকে তদারকি বেড়ে যাওয়া; এমনকি বাধার কারণে দেশটিতে এ খাতে প্রবৃদ্ধির গতি এখন ধীর হয়ে এসেছে।
হরসিমরান সিং কোচার, যার পরিবারের সদস্যরা ভারতজুড়ে বিভিন্ন স্কুল পরিচালনা করেন, তিনি জানান, তিনি তার পাঁচ বছর বয়সী মেয়ে পরিণিতিকে বেডফোর্ড মোহালিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ স্কুলটি শুধুমাত্র পড়াশোনার উপর নয়, বরং শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠন ও আত্মবিশ্বাসের উপর সামগ্রিক মনোযোগ দেয়।
‘ভারতের অন্যান্য অনেক স্কুলের মতো এই স্কুলে কোনো ভিআইপি সংস্কৃতি নেই, যা তাকে আকৃষ্ট করেছে’, বলেন তিনি।
এছাড়াও, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে ভারতের বিশাল বাজার ধরতে ব্রিটেনের অন্তত ৯টি শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ভারতে স্বাধীন ক্যাম্পাস ও হাব গড়ে তুলছে।
ইউনিভার্সিটি অব সাউদাম্পটন তাদের ক্যাম্পাস চালু করেছে। ইউনিভার্সিটি অব লিভারপুল বেঙ্গালুরুতে তাদের ক্যাম্পাস চালুর অনুমোদন পেয়েছে। ইউনিভার্সিটি অব ইয়র্ক ও ইউনিভার্সিটি অব এবারডিন মুম্বাইতে ক্যাম্পাস স্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
এছাড়াও ল্যাঙ্কাস্টার, ব্রিস্টল, কভেন্ট্রি এবং কুইন্স ইউনিভার্সিটি বেলফাস্টের মতো বড় নামগুলো এই তালিকায় রয়েছে।
সূত্র : বিবিসি
আইজে/জেডএস
