যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের ঘোষণার পর তা ব্লক করার বিষয়টি বিবেচনা করছে বিভিন্ন দেশ। তবে নিউজিল্যান্ডের জাতীয় সেন্সর সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের এই সম্প্রচার দেখা থেকে বিরত রাখার আইনি ক্ষমতা তাদের নেই।২০০৯ সালের নভেম্বরে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে গুলি চালিয়ে ১৩ জনকে হত্যা ও ৩২ জনকে আহত করার দায়ে নিদাল হাসানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তিনি সাবেক সেনা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর জানায়, ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এ ধরনের উদ্যোগ নজিরবিহীন।
অনলাইনে তরুণদের ক্ষতিকর কনটেন্ট থেকে সুরক্ষার উদ্যোগের মধ্যে ওয়াশিংটনের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নিউজিল্যান্ডের সরকারি সংস্থা ক্লাসিফিকেশন অফিস জানিয়েছে, সরাসরি সম্প্রচার চলাকালে তা সেন্সর করা কঠিন। সংস্থাটির ভাষ্য, এ ধরনের সম্প্রচার বন্ধ করার আইনি এখতিয়ার তাদের বা অন্য কোনো সংস্থার নেই।
নিউজিল্যান্ডের প্রধান সেন্সর ক্যারোলিন ফ্লোরা বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সম্ভাব্য ক্ষতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হয় বলে কোনো কনটেন্ট নিষিদ্ধ করার আইনি মানদণ্ড কঠিন। কোনো বিষয় পীড়াদায়ক হলেই তা বেআইনি হয়ে যায় না।অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্তকে সঠিক বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, অপরাধের গুরুতর পরিণতি সম্পর্কে মানুষের জানা প্রয়োজন। মার্কিন আইন অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এতে সম্মতি দিয়েছেন। তবে সরাসরি সম্প্রচারের বিষয়ে ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে হোয়াইট হাউস স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেনি।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়ার প্রচার ব্যবস্থাপক কায়িনজোম ঢোংদুয়ে বলেন, ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দৃশ্য সরাসরি সম্প্রচার মানুষের মর্যাদার প্রতি চরম অবমাননা। তাঁর মতে, রাষ্ট্রের অনুমোদনে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডকে প্রকাশ্য প্রদর্শনীতে পরিণত করা মৃত্যুদণ্ডের নিষ্ঠুরতা আরও বাড়িয়ে তোলে।
এ বিষয়ে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হলেও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরান ও তালেবানশাসিত আফগানিস্তানে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা ঘটেছে।
