Published : 12 Oct 2026, 10:45 PM
Updated : 12 Oct 2026, 10:45 PM
গ্রামীণ টেলিকমের কাছ থেকে পাওয়া অর্থকে ‘লভ্যাংশ’ বা ডিভিডেন্ড হিসেবে দেখিয়ে সরকারকে ন্যায্য রাজস্ব থেকে বঞ্চিত করতে গ্রামীণ কল্যাণ চেষ্টায় কোনো কমতি রাখেনি বলে পূর্ণাঙ্গ রায়ে পর্যবেক্ষণ দিয়েছে হাই কোর্ট।
সোমবার প্রকাশিত রায়ের পর্যবেক্ষণে প্রতিষ্ঠানটির এ কর্মকাণ্ডকে ‘কর ফাঁকি দেওয়ার ধ্রুপদী নজির’ (ক্লাসিক কেস অব ইভেডিং ট্যাক্সেস) হিসেবে অভিহিত করেছে আদালত।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আব্দুস সামাদ আজাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই কর ফাঁকি ও আইনি জটিলতার সঙ্গে প্রায় ৬৬৭ কোটি টাকার কর জড়িত। এর মধ্যে ২০১২-১৩ করবর্ষে ১৮৯ কোটি ২৫ লাখ ২৫ হাজার ৪৬৬ টাকা, ২০১৩-১৪ করবর্ষে ১৩২ কোটি ৭৭ লাখ ৪৬ হাজার ১২ টাকা, ২০১৪-১৫ করবর্ষে ১১৪ কোটি ২ লাখ ৮২ হাজার ৫৭৪ টাকা, ২০১৫-১৬ করবর্ষে ১১৫ কোটি ২২ লাখ ৯৬ হাজার ৬২৫ টাকা এবং ২০১৬-১৭ করবর্ষে ১১৫ কোটি ৬৩ লাখ ১ হাজার ৬৯৩ টাকা বকেয়া কর জড়িত। সব মিলিয়ে পাঁচ করবর্ষে মোট ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা দাবি করা হয়েছে।
প্রকাশিত ৩২ ও ১৫ পৃষ্ঠার দুই রায়ে আদালত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) বকেয়া কর আদায়ে ডিমান্ড নোটিস জারি করে তা আদায়ের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে দেওয়া স্থগিতাদেশও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়। রায় দুটি লিখেছেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া।
১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ কল্যাণ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ পরিবারের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান। মুহাম্মদ ইউনূস গ্রামীণ কল্যাণের সাবেক চেয়ারম্যান।
মামলার নথি অনুযায়ী, গ্রামীণ কল্যাণ কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর ২৮ ধারার অধীনে গঠিত একটি প্রতিষ্ঠান। বিভিন্ন দাতা সংস্থার কাছ থেকে অনুদান ও ঋণ হিসেবে পাওয়া ৩২০ কোটি ১৮ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৪ টাকার একটি তহবিল নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি গঠিত হয় এবং পরবর্তীতে তারা গ্রামীণ টেলিকমের সঙ্গে যৌথ বিনিয়োগ চুক্তিতে যায়।
