নতুন চাকরিতে যোগ দিয়ে আনন্দচিত্তে বাড়ি ফিরছিলেন ৩০ বছর বয়সী আনোয়ার হোসেন। কিন্তু এক মুহূর্তের এক সড়ক দুর্ঘটনায় সব আনন্দ নিভে গেছে। নাটোরের বড়াইগ্রামে আজ মঙ্গলবার ভোরে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন আনোয়ারও। নিহত আনোয়ার হোসেন রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের চাঁইপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
যেভাবে ঘটেছিল দুর্ঘটনা
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বড়াইগ্রামের বনপাড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সামনে বরিশাল থেকে চাঁপাইনবাবগামী ‘আরপি পরিবহন’-এর একটি বাসের সঙ্গে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ৯ জন। এরপর খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে হতাহতদের উদ্ধার করে নাটোর, রাজশাহী ও স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান। এবং হাসপাতালে মারা যান আরও পাঁচজন।
ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরার পথেই কাল
নিহতের স্বজন ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, আনোয়ার ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। মাস দুয়েক আগে তিনি একটি নতুন প্রকল্পে চাকরি পান। নতুন এই চাকরি পাওয়ার পর ছুটি নিয়ে তিনি গ্রামের বাড়ির দিকে রওনা হয়েছিলেন। নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের পুঠিয়ায় বাস থেকে নেমে সেখান থেকে নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর কথা ছিল। যাত্রাপথে পরিবারের সদস্যদের মুঠোফোনে এমনটাই জানিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই বাড়ি ফেরা আর হলো না।
চাঁইপাড়া গ্রামে শোকের মাতম
মঙ্গলবার সকালে চাঁইপাড়া গ্রামে আনোয়ারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকের স্তব্ধতা। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে চারপাশ। এই দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সময় আনোয়ারের স্ত্রী ফাতেমা বিবি কনোপাড়া গ্রামে তার বাবার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। খবর পেয়ে প্রতিবেশীরা দ্রুত সান্ত্বনা দিতে সেখানে ছুটে যান।
সকাল ১০টার দিকে দুই সন্তানকে নিয়ে স্বামীর বাড়িতে আসেন ফাতেমা বিবি। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুর খবরে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছিলেন তিনি, শোকের ভারে মুখ দিয়ে কোনো কথাই বের হচ্ছিল না। এদিকে খবর পেয়ে আনোয়ারের চাচা আকতার হোসেন মরদেহ গ্রহণের জন্য সকালেই নাটোরে পৌঁছান।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুজ্জামান জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আনোয়ারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর তার পরিবারকে জানানো হয়েছে। মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করতে থানা–পুলিশ বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে।
এদিকে নাটোরে সড়ক দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ১৭ জনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তারা হলেন- নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার জুলফিকার আলী (৪১), চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার শামীম (১৮), রাজশাহীর কাজলা এলাকার ফজলুর রহমান (৬০) সিয়াম (১৭) ডালিম (৩০) নওগাঁর সাপাহার উপজেলার নূর (৩২), বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার শহিদুল (৩৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার তামিম (১৭), ঝিনাইদহের জুয়েল কিবরিয়া (৪০), তৌহিদ (৪০), রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার মজনু (৪০), চাঁপাইনবাবগঞ্জের নয়ন (৩২) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের ববি (৩০) মাদারীপুরের (১৮) বরিশালের নার্গিস (৫০) , ঝিনাইদহে ডা মুশফিক (৩১), এবং নওগাঁ উপজেলার নিয়ামতপুরের চিরঞ্জিত (৩০)।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শেখ শামীম আহমেদ বলেন, আহতরা সবাই তুলনামূল ভালো পজিশনে আছেন। তবে কারো কারো ইন্টারন্যাল ব্লিডিং হতে পারে। তাই ৪৮ ঘণ্টার আগে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না।
