৪২ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ৪২ মিনিট আগে
স্টার অনলাইন রিপোর্ট
সংবিধান সংশোধন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উদ্যোগ আদালতে গিয়ে নাকচ হয়ে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, অতীতের ভুল পথে ফিরে গিয়ে এমন পণ্ডশ্রম করতে রাজি নয় জামায়াত। এ কারণেই তারা সংস্কার চান।
‘আরেকটা সংশোধন করবেন, একটা আদালত এটাকে একদম হোয়াইটওয়াশ করে দেবে। আমরা এই পণ্ডশ্রমে এবং অতীতের ভুল ধারায় চলতে অভ্যস্ত নই, আমরা রাজি নই। এই জন্যই আমরা সংস্কার চাই,’ বলেন তিনি।
জুলাই সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আজ রোববার রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের জন্ম দেওয়া সংবিধানে ফিরে না গিয়ে জুলাই সনদের আলোকে গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই সরকারকে এই রায় বাস্তবায়নে বাধ্য করা হবে।
তিনি বলেন, জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দীর্ঘ সাত মাসের বেশি সময় ধরে আলোচনা করে ঐকমত্য কমিশন অধিকাংশ বিষয়ে একমত হয়ে একটি সনদ তৈরি করেছিল। সংশ্লিষ্ট সবার এই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার ছিল।
জামায়াত আমির বলেন, তাদের দাবি ছিল, আগে গণভোট হবে, পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। কিন্তু একই দিনে দুটি ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ায় গণভোট ও সংসদ নির্বাচনকে গুলিয়ে ফেলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, যা শেষ পর্যন্ত সত্য হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, ‘জনগণের আকাঙ্ক্ষার কাছে “না” ভেসে গেছে, ৭০ ভাগ মানুষ “হ্যাঁ”তে ভোট দিয়েছে। দেশের জনগণ জানিয়ে দিয়েছে, আমরা অতীতের ঘুণে ধরা, বস্তাপচা রাজনীতি আর দেখতে চাই না। আমরা তার পরিবর্তন চাই, সংস্কার চাই।’
সংবিধান সংশোধনের জন্য গঠিত বিশেষ কমিটির বিষয়ে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের সঙ্গে করা অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না করে বিরোধী দলকেও এমন একটি প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে বলা হচ্ছে, যার মাধ্যমে গণভোটের রায় কার্যকর না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সংবিধান শুধু ফ্যাসিবাদের জন্ম দেয়নি, বরং ফ্যাসিবাদকে স্থায়ী রূপ দেওয়ারও চেষ্টা করেছে। তাই পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে না গিয়ে গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হবে।
জামায়াত আমির বলেন, ‘এই গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবেন আপনারা, ইনশাআল্লাহ।’ জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, কোনো দলীয় দাবি নয়, জনগণের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যেই তারা মাঠে নেমেছেন।
গত ২০ অক্টোবর রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া বক্তব্য প্রসঙ্গেও কথা বলেন জামায়াত আমির। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘পরিষ্কার গোয়েন্দাদের তথ্য আছে যে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে তারা কাদের সাহায্যে করছে? এই যে কতগুলো লোক আছে, একটি দল আছে যারা ভ্রান্তি ছড়ায় দেশের মধ্যে, যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে মিথ্যা কথা বলে, এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।’
এই অভিযোগ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতার ভাষ্য, ক্ষমতাসীনরা এখন নিজেদের ‘ব্যর্থতা’ ঢাকতে নতুন নতুন বয়ান তৈরি করছে।
তিনি বলেন, ‘বলতেছেন, সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে আর এইখানে ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা নাকি অস্থিরতা সৃষ্টি করছি। সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে তো আপনি সরকারে আছেন কেন? এই টাকা ঢুকে কীভাবে, ঠেকাতে পারেন না কেন? ওপার থেকে অস্ত্র আসে, মাদক আসে, কেন ঠেকাতে পারেন না? যেই সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়বস্তু ঠেকানোর কোনো যোগ্যতা নাই, সেই সরকারের দেশ শাসন করার কোনো অধিকার নাই।’
আলোচনা সভায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ জনগণের স্বার্থে অনতিবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণা দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, চারদিক যুদ্ধ করে প্রধানমন্ত্রী জয়লাভ করতে পারবেন না।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, বিএনপি সংস্কারের কোনো এজেন্ডাকেই বাস্তবায়ন করতে চায় না। এখন তারা পেছনে ফিরে যাওয়ার বাহানা খুঁজছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের পায়ের তলার মাটি সরে গেছে। এ জন্য তারা আবোলতাবোল বলে, জাতিকে ভুল বুঝিয়ে কোনো রকম টিকে থাকার অপচেষ্টা করছে।
আলোচনা সভায় জামায়াতের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমানসহ অন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের পাশাপাশি আরও বক্তব্য দেন সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী, এবি পার্টির সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ।
