দেশের সঙ্গেই চূড়ান্ত বিশ্বাসঘাতকতা করলেন এক রুশ জওয়ান। চার বছর ধরে চলা যুদ্ধে রুশ বাহিনীর গোপন রণকৌশল, মানচিত্র এবং সংবেদনশীল তথ্য কিয়েভের গোয়েন্দাদের হাতে তুলে দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে ওই তরুণের বিরুদ্ধে। তাঁর অন্তর্ঘাতের জেরেই তিনশোর বেশি রুশ সেনার মৃত্যু হয়েছে বলে খবর।
বছর ২৬-এর তরুণ লেফটেন্যান্ট লেভ স্তুপনিকভ। ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি দখলের দায়িত্বে প্রধান অফিসার হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছিল স্তুপনিকভকে। তাঁর মূল দায়িত্ব ছিল কমান্ডারদের সঙ্গে বিভিন্ন ইউনিটের যোগাযোগ রাখা এবং নজরদারি ড্রোন ও ক্যামেরা থেকে আসা তথ্য
সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া। কিন্তু তিনি গোপনে ইউক্রেনীয় গোয়েন্দাদের কাছে রুশ বাহিনীর অবস্থান এবং পরিকল্পিত গতিবিধির নিখুঁত বিবরণ সরবরাহ করতে শুরু করেন বলে জানা গিয়েছে। আপাতত কিয়েভে পালিয়ে গিয়েছেন স্তুপনিকভ।
জানা গিয়েছে এক সকালে পেটে ব্যথার ভান করে সহযোদ্ধাদের থেকে দূরে সরে যান স্তুপনিকভ। তার পরেই তিনি যে কোঅর্ডিনেট ইউক্রেনীয় বাহিনীকে পাঠিয়েছিলেন, সেই নির্দিষ্ট জায়গায় আছড়ে পড়ে ইউক্রেনের মিসাইল।
তদন্তে নানা চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে। জানা গিয়েছে এক সকালে পেটে ব্যথার ভান করে সহযোদ্ধাদের থেকে দূরে সরে যান স্তুপনিকভ। তার পরেই তিনি যে কোঅর্ডিনেট ইউক্রেনীয় বাহিনীকে পাঠিয়েছিলেন, সেই নির্দিষ্ট জায়গায় আছড়ে পড়ে ইউক্রেনের মিসাইল। এক কর্নেল-সহ মোট ৬৮ জন রুশ সেনা ঘটনাস্থলেই নিহত হন। শুধু তা-ই নয়, জখম হন আরও প্রায় ৬০ জন। ইউক্রেনের পক্ষ থেকে হামলার পর স্তুপনিকভকে মেসেজ করে জানতে চাওয়া হয়েছিল বড় বিস্ফোরণ হয়েছে কি না। জবাবে স্তুপনিকভ জানান, ‘কেবল মাংসের স্তূপ পড়ে আছে।’ ইউক্রেনের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং রুশ সামরিক গোপন তথ্য পাচার করতে ইচ্ছুক এমন হাজার হাজার মানুষের একটি সুসংগঠিত গুপ্ত নেটওয়ার্কের সঙ্গেই যুক্ত ছিলেন এই তরুণ অফিসার। রিপোর্ট অনুযায়ী, সাধারণ গৃহবধূ থেকে শুরু করে বহু রুশ সেনা পর্যন্ত এনক্রিপ্টেড প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ইউক্রেনীয় এজেন্টদের সঙ্গে নিয়মিত তথ্য আদানপ্রদান করে চলেছেন।
ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক আগ্রাসন দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন স্তুপনিকভ। রুশ বিরোধী ব্যক্তিত্বদের ভিডিও এবং যুদ্ধবন্দিদের সাক্ষাৎকার দেখেই তাঁর মনে পুতিন সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ঘৃণা জন্ম নেয়। স্তুপনিকভকে সব চেয়ে বেশি সাহায্য করেছিলেন তাঁর মা তাতিয়ানা ইয়ান্টসেন। ইয়ান্টসেন অতীতে পুতিন সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে মায়ের মাধ্যমেই ইউক্রেনীয় সামরিক গোয়েন্দাদের গুপ্ত নেটওয়ার্কের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন স্তুপনিকভ। ইউক্রেনীয় যুদ্ধ প্রচেষ্টায় সাহায্যকারী রুশ সেনাদের আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণার পরেই এই যোগাযোগ আরও পোক্ত হয়। অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে এক রাতে নিজের রুশ ইউনিট থেকে পালিয়ে ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডে চলে যান তিনি।
