স্মৃতি বড় অদ্ভুত এক ক্যানভাস। সময়ের সঙ্গে বদলে যায় জীবনের ব্যস্ততা, কিন্তু শৈশবের আনন্দ আর ছোট ছোট স্মৃতিগুলো রয়ে যায় মনের গভীরে। বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের পড়াশোনা ও নানা ব্যস্ততার মধ্যেও সেই শৈশবকে নতুন করে ফিরে পাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে ড্যাফোডিল বন্ধুসভার বিশেষ আয়োজন ‘বন্ধু আড্ডা’।
৩ অক্টোবর বিকেলে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কাঁঠালতলায় অনুষ্ঠিত হয় এই আয়োজন। বৃষ্টি ও শীতল আবহাওয়ার মধ্যে পরিচয়পর্বের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বন্ধুদের মিলনমেলা। পরিচয়ের আনুষ্ঠানিকতা পেরিয়ে ধীরে ধীরে জমে ওঠে আড্ডা। বন্ধুরা ফিরে যান তাঁদের ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলোতে।

অন্যতম আকর্ষণ ছিল শৈশবের পরিচিত সব খেলাধুলা। ‘ওপেনটি বায়োস্কোপ’, ‘বরফ-পানি’ ও ‘ছোঁয়াছুঁয়ির’ মতো খেলায় মেতে ওঠেন সবাই। ছোটবেলার সেই চেনা খেলাগুলো যেন মুহূর্তেই ফিরিয়ে আনে শৈশবের সরলতা ও আনন্দ। হাসি, উচ্ছ্বাস আর প্রাণবন্ত অংশগ্রহণে মুখর হয়ে ওঠে কাঁঠালতলা। কে কতটা ভালো খেলছেন, তার চেয়ে বড় হয়ে ওঠে একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করার মুহূর্তগুলো।
খেলাধুলার পর শুরু হয় আইসক্রিম ও চায়ের আড্ডা। বন্ধুদের সঙ্গে গল্প, হাসি-ঠাট্টা ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে সময় কাটে আনন্দে। বৃষ্টি ও শীতল আবহাওয়ার মধ্যে চায়ের আড্ডা আয়োজনটিতে যোগ করে ভিন্ন মাত্রা। বন্ধুরা একে অপরের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠেন, ভাগাভাগি করেন নানা অভিজ্ঞতা। অনানুষ্ঠানিক এই মুহূর্তগুলো আড্ডাকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে।

দিনের শেষ পর্বে বসে গানের আসর। গানের সুর ও বন্ধুদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আয়োজনটি। খেলাধুলা, গল্প, চা ও গানের সমন্বয়ে ‘বন্ধু আড্ডা’ হয়ে ওঠে শৈশবের স্মৃতিতে ফিরে যাওয়ার এক সুন্দর উপলক্ষ।
আড্ডায় উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মুসাভভির সাকির, সাধারণ সম্পাদক অণীক ভূষণ সাহা, অর্থ সম্পাদক রিজভী আমিন, দপ্তর সম্পাদক আবিদুর রহমান, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোহাম্মদ ত্বোয়া-হা, প্রশিক্ষণ সম্পাদক পিয়াস সরকার, স্বাস্থ্য ও ক্রীড়া সম্পাদক মুহাম্মদ নাঈমসহ অন্যান্য বন্ধুরা।
পাঠাগার ও পাঠচক্র সম্পাদক, ড্যাফোডিল বন্ধুসভা
