মহিলাদের মর্যাদা রক্ষার স্লোগান দেন, অথচ দলের সাংসদের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগে নীরব কেন? জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) অধ্যাপক তথা কংগ্রেস সাংসদ আংগমচা বিমল আকইজামের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঘিরে এবার সরাসরি রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ও সোনিয়া গান্ধীকে নিশানা করল বিজেপি। অভিযুক্ত সাংসদকে লোকসভা থেকে সাসপেন্ড করার দাবি নিয়ে মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর দ্বারস্থ হন বিজেপির মহিলা সাংসদরা। পাশাপাশি, অভিযোগকারিণী ১১ জন তরুণীর নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার আর্জিও জানালেন তাঁরা।
বিজেপির মহিলা মোর্চার সভানেত্রী রূপকুমারী চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫ জন সাংসদের প্রতিনিধি দল এদিন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে। পরে চৌধুরী জানান, বিষয়টি তদন্ত করে উপযুক্ত পদক্ষেপ করার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর দাবি, আকোইজামের বিরুদ্ধে ১১ জন তরুণী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে জেএনইউয়ে তদন্ত শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত কমিটি তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল বলেও দাবি করেন চৌধুরী। তাঁর আরও বক্তব্য, ওই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপকের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় আকোইজামকে।
বিজেপির অভিযোগ, সাংসদের রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে অভিযোগকারিণীরা আতঙ্কে রয়েছেন। তাই তাঁদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চেয়েছেন মহিলা সাংসদরা। একই সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে। চৌধুরীর কটাক্ষ, প্রিয়াঙ্কার ‘লড়কি হুঁ, লড় সকতি হুঁ’ স্লোগান কি শুধু প্রচারের জন্য? মহিলাদের সম্মান রক্ষার কথা বলা নেত্রীরা এই ঘটনায় মুখ খুলছেন না কেন? অভিযোগকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসকে বিঁধলেও, সাংসদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং লোকসভা থেকে তাঁকে সাসপেন্ড করার দাবি-দুটি পৃথক বিষয়। রাষ্ট্রপতির কাছে বিজেপির আর্জির পর এ বার কী পদক্ষেপ করা হয়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
