পাল্টাচ্ছে উত্তরের রাজনৈতিক সমীকরণ! কেন্দ্রীয় সরকার নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজকুমার সিংয়ের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে পাহাড়ের রাজনৈতিক নেতৃত্ব দার্জিলিং-কালিম্পং ছাড়াও তরাই, ডুয়ার্স নিয়ে পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি তুলতেই ক্ষুব্ধ কামতাপুর পিপলস পার্টি (কেপিপি)। তাদের পালটা দাবি, গোটা উত্তরবঙ্গ নিয়ে কামতাপুর রাজ্য গঠন করতে হবে। পাহাড় সমস্যার স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে সম্প্রতি দার্জিলিংয়ের একটি অভিজাত হোটেলে কেন্দ্রীয় সরকার নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারী পঙ্কজকুমার সিং পাহাড়ের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
বৈঠকে ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সহসচিব অরবিন্দ খের এবং রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব সংঘমিত্রা ঘোষ। জানা গিয়েছে, প্রথম বৈঠকে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার শীর্ষনেতৃত্ব পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি থেকে সরে দাঁড়িয়ে তরাই ও ডুয়ার্স সমতলের ৩৯৬টি গোর্খা অধ্যুষিত মৌজা নতুন স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান মধ্যস্থতাকারী কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি দলের সামনে।
অন্যদিকে, গোর্খাল্যান্ড অ্যাপেক্স কমিটি ও ইন্ডিয়ান গোর্খা জনশক্তি ফ্রন্ট জানিয়ে দেয় পৃথক রাজ্য গঠন ছাড়া পাহাড়, তরাই ও ডুয়ার্সের সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এখানেই শেষ নয়। তাদের দাবি, প্রস্তাবিত নতুন রাজ্যের নাম যাই হোক না কেন দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্শিয়াং ও মিরিকের পাশাপাশি তরাই এবং ডুয়ার্স অঞ্চল অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতে পৃথক কামতাপুর রাজ্যের দাবিতে আন্দোলনকারীদের মধ্যে চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
তাদের দাবি, গোটা উত্তরবঙ্গ এবং অসমের কিছু অংশ নিয়ে পৃথক কামতাপুর রাজ্য গঠনের দাবিতে দীর্ঘদিন থেকে আন্দোলন চলছে। সেটা অমান্য করে পৃথক গোর্খাল্যান্ডের দাবি ওঠে কেমন করে? কামতাপুর পিপলস পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নিখিল রায় বলেন, “একতরফা মতামত নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে হিতে বিপরীত ফল হবে। গোটা উত্তরবঙ্গ নিয়ে কামতাপুর রাজ্য গঠনের দাবিতে দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা আন্দোলনের কথা কেন্দ্রীয় সরকার জানে। সেটা অমান্য করার চেষ্টা হলে ফের উত্তরবঙ্গ উত্তপ্ত হবে।”
