অর্থনীতিতে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা। এ বছর ঐতিহ্যবাহী এই পুরস্কার পাচ্ছেন আমেরিকার দুই গবেষক। তাঁরা হলেন, রবার্ট ই. হল এবং মাইকেল উডফোর্ড। সোমবার, ১২ অক্টোবর প্রথামাফিক তাঁদের নাম ঘোষণা করে স্টকহোমের রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি। এই নিয়ে চলতি বছরে আমেরিকা থেকে নোবেল জিতলেন মোট তিনজন।
নোবেলজয়ী হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার স্ট্যান্ডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত। অন্য দিকে, উডফোর্ড কাজ করছেন নিউ ইয়র্কের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে। তাঁদের গবেষণার বিষয়বস্তু হল, ‘সমষ্টিগত আর্থিক স্থিতিশীলতায় ক্ষুদ্র অর্থনীতির ভিত্তি’ (পড়ুন, মাইক্রোইকোনমিক ফাউন্ডেশন্স অফ ম্যাক্রোইকোনমিক স্টেবিলাইজ়েশন)।
এ দিন, পুরস্কারজয়ী দু’জনের নাম ঘোষণার সময় জন হ্যাসলার বলেন, ‘‘হল ও উডফোর্ডের স্থিতিশীল তত্ত্বের উপর ভিত্তি করে বিশ্ব জুড়ে তৈরি হচ্ছে অর্থনীতির বিভিন্ন মডেল। একাধিক কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ও সরকার সেগুলি অনুসরণও করছে। তাঁদের দেখানো রাস্তায় আমরা আকস্মিক আর্থিক ধাক্কা, জ্বালানি সঙ্কট বা পারিবারিক খরচে হঠাৎ বদলের মতো বিষয়গুলি মোকাবিলা করতে পারব।’’
উল্লেখ্য, নোবেল কমিটির অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি পদে রয়েছেন হ্যাসলার। অতীতে অবশ্য এই পুরস্কারটি ‘ব্যাঙ্ক অফ সুইডেন প্রাইজ় ইন ইকোনমিক সায়েন্সেস’ নামে পরিচিত ছিল। এ বছর ইতিমধ্যেই চিকিৎসাবিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, সাহিত্য এবং শান্তিতে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করেছে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি। সর্বশেষ বিষয়টিরও নাম জানিয়ে দিল তারা।
এ বছর অর্থনীতিতে নোবেলের পুরস্কারমূল্য ১২ লক্ষ ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় যেটি আনুমানিক ১১.৪৭ কোটি টাকা। স্টকহোমের রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি জানিয়েছে, হল ও উডফোর্ডের গবেষণায় নতুন কেইনসীয় মডেল তৈরি হয়েছে।
তা ছাড়া, স্থিতিশীল নীতি কী ভাবে ব্যবসায়িক চক্রকে প্রভাবিত করে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন নোবেলজয়ী ওই দুই মার্কিন অর্থনীতিবিদ। এতে আগের চেয়ে সার্বিক ভাবে আর্থিক সঙ্কট মোকাবিলা করা অনেক সহজ হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেছে স্টকহোমের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান।
সংশ্লিষ্ট ইস্যুতে এক্স হ্যান্ডলে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্ট করে নোবেল কমিটি। সেখানে বলা হয়েছে, ‘‘হল ও উডফোর্ডের গবেষণা সাম্প্রতিক বছরগুলিতে মহামারী ও জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় অত্যন্ত উপকারী প্রমাণিত হয়েছে। ফলে, গত শতাব্দীর ৭০-এর দশকের মতো মুদ্রাস্ফীতি ও এগুলির দীর্ঘমেয়াদি বিপদ এড়াতে সক্ষম হয়েছে গোটা বিশ্ব।’’
