নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের কাঁচপুরে গ্যাসের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে দগ্ধ চারজনের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) গভীর রাতে বিস্ফোরণের পর তাদের রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোর থেকে দুপুরের মধ্যে তিনজন মারা যান। দগ্ধ অপর একজনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন- শরীফ হোসেন (৩৪), তার স্ত্রী রোজিনা আক্তার (৩০) ও রোজিনার ভাই রিয়াজ। তাদের মধ্যে বৃহস্পতিবার ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে রোজিনা এবং ভোর ৪টার দিকে শরীফ মারা যান। পরে দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় রিয়াজের মৃত্যু হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বিস্ফোরণে রোজিনার শরীরের ৬০ শতাংশ এবং তার স্বামী শরীফ ও ভাই রিয়াজের শরীরের ৪০ শতাংশ করে পুড়ে গিয়েছিল। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।
চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার আরও জানান, একই ঘটনায় দগ্ধ ভবনটির তত্ত্বাবধায়ক রনি মিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শরীরের ৭০ শতাংশ পুড়ে গেছে। বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
জানা যায়, গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রাত দেড়টার দিকে সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুরের সোনাপুর উত্তরপাড়া গ্রামের শাহ আলম মিয়ার ছয়তলা ভবন ইসলাম টাওয়ারের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে বিস্ফোরণ ঘটে। গ্যাসের চাপ বাড়ানোর জন্য স্থাপিত কম্প্রেসার লাইনে লিকেজ থেকে এ বিস্ফোরণের ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
বিস্ফোরণে ভবনটিতে থাকা দুই পরিবারের চারজন দগ্ধ হন। পরে তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। ঘটনার চার দিন পর একই পরিবারের ভাই-বোন ও বোনের স্বামীর মৃত্যু হলো।
