পদ্মা ব্যাংকে রাখা আমানত ফেরত চেয়ে মতিঝিলে মানববন্ধন করেছেন ব্যাংকটির গ্রাহকরা।
বুধবার সকাল ১০টায় মতিঝিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানববন্ধনে অংশ নেন তারা। মানববন্ধনকারীদের একটি অংশ এসময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেন।
আমানতকারীরা বলছেন, তারা গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দিতে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে গভর্নর আইএমএফের বার্ষিক সাধারণ সভায় যোগ দিতে থাইল্যান্ড থাকায় তারা গভর্নরের অফিসে স্মারকলিপি পৌঁছে দেন।
স্মারকলিপিতে স্বাক্ষরকারী জাকির হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘‘অন্য ব্যাংকের আমানতকারীদের মতে পদ্মা ব্যাংকের আমানতকারীদেরও বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা করতে হবে। আমাদেরও তারল্য সহযোগিতা লাগবে।
“আমরা স্বারকলিপি দিয়েছি, এখন অপেক্ষা করব। যদি না দেয়, তাহলে আমরা আরও কর্মসূচি দেব।”
স্মারকলিপিতে লেখা হয়, “জীবনের সমস্ত শ্রম, পেনশনের টাকা, চিকিৎসার সঞ্চয় ও সহায়-সম্বল বিক্রি করে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতি আস্থা রেখে উক্ত ব্যাংকে আমানত রেখেছিলাম। অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়, মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও পদ্মা ব্যাংক সাধারণ গ্রাহকদের আমানতের টাকা ফেরত দিচ্ছে না।
“আমানতকারীরা প্রতিনিয়ত ব্যাংক শাখাগুলোতে গিয়ে অপদস্থ ও প্রতারিত হচ্ছেন। চিকিৎসার অভাবে আমানতকারী বিনা চিকিৎসায় মারা যাচ্ছেন, সংসার চালাতে না পেরে অনেকে পথে বসেছেন।”
বেসরকারি পদ্মা (সাবেক ফারমার্স) ব্যাংক আরও সচল করার চেষ্টা করার কথা গত ৬ অক্টোবর বলেছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নে সেদিন তিনি বলেন, ‘‘এই ব্যাংকটি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে- এই ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংক নেয়নি। জোরাল ভাষায় বলছি।’’
আর্থিকভাবে দুর্দশাগ্রস্ত পদ্মা ব্যাংকের কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যস্তায় বিভিন্ন সময়ে তারল্য সহায়তার যোগান দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। আগের রাখা আমানতের সঙ্গে নতুন আমানত যোগান দেয় রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রুপালী ব্যাংক।
২০১৯ সালে আমানতকে বিনিয়োগে রূপান্তর করে পদ্মা ব্যাংকের শেয়ার কিনে নেয় এ চার ব্যাংক। মোট শেয়ারের প্রায় ৬৮ শতাংশ এ চারটি ব্যাংকর। এজন্য ব্যাংক কোম্পানি আইনের পরিচালক সংক্রান্ত ধারা শিথীল করে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের পদ্মা ব্যাংকের পরিচালক পর্ষদের সদস্য করা হয়।
সেই থেকে পদ্মা ব্যাংক চালিয়ে আসছেন রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা। পাশাপাশি শেয়ার কিনে নেয় রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)।
বর্তমানে পদ্মা ব্যাংকের চেয়ারম্যান হচ্ছেন সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শওকত আলী খান।
ব্যাংকটির সবশেষ প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন শেষে ব্যাংকটির বিতরণ করা ঋণের ৯১ শতাংশের বেশি খেলাপি হয়েছে। ওই সময় পর্যন্ত ব্যাংকটির মোট বিতরণ করা ঋণ ছিল ৫ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৫ হাজার ১৩১ কোটি টাকা।
একই সময়ে আমানত ছিল ৬ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা। পরিচালন ক্ষতি দাঁড়ায় ৩৪১ কোটি ৪২ লাখ টাকা। বর্তমানে ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতির পরিমাণ ৪ হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা।
