Published on
:
2 min read
এই সময়: ভারতে তাঁর স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা সংস্থা স্টারলিঙ্ক-এর পরিষেবা চালু করতে চেষ্টার কোনও কসুর করছেন না। কখনও গরমে মুকেশ আম্বানিকে দেদার ‘গাল’ দিয়ে, তো কখনও নরমে, দেশবাসীকে সস্তায় ইন্টারনেট স্ট্রিমিং দেওয়ার টোপ দেখিয়ে।
ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল স্পেস প্রোমোশন অ্যান্ড অথরাইজ়েশন সেন্টার (ইন-স্পেস)-এর গ্লোবাল মোবাইল পার্সোনাল কমিউনিকেশন বাই স্যাটেলাইট (জিএমপিসিএস) লাইসেন্স এবং অথরাইজ়েশন মাস্কের পকেটে থাকলেও কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে চূড়ান্ত সিকিওরিটি ক্লিয়ারেন্স পাওয়া এবং স্পেকট্রাম বণ্টন এখনও বাকি। যে কাজ মুকেশ আম্বানির মতো ‘প্রভাবশালী’র জন্যই থমকে রয়েছে বলে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর নাম করে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি টেসলা-প্রধান।
এ সবের মধ্যেই এক রিপোর্ট প্রকাশ করে তক্ষশীলা ইনস্টিটিউশন-এর তরফে দাবি করা হলো, মাস্কের স্টারলিঙ্ককে দেশে পরিষেবা দেওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের একক নিয়ন্ত্রণ বিঘ্নিত হতে পারে। রিপোর্টে আরও দাবি করা হয়েছে, বিদেশি নিয়ন্ত্রণাধীন বেসরকারি অপারেটর-এর হাতে থাকলে জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে। যে সময়ে কেন্দ্রীয় সরকার পরিষেবা বন্ধ/নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, সেই সময়ে ব্যবসায়িক স্বার্থে তারা তা করতে রাজি না হওয়ার পাশাপাশি দেশের প্রায় দেড়শো কোটি দেশবাসীর ব্যক্তিগত তথ্যও নিজেদের ব্যবসায়িক কাজে লাগাতে পারে গ্রাহকের মতামত ছাড়াই। যে আশঙ্কার জন্য ইউক্রেনের উদাহরণ টানা হয়েছে রিপোর্টে।
যেখানে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি’তে সেদেশে স্টারলিঙ্ক-এর পরিষেবা চালু হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তা সরকারি এবং সেনার যোগাযোগ ব্যবস্থায় একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে শুরু করে। কিন্তু এরপর একাধিক বার অভিযোগ ওঠে, সরকারকে কিছু না জানিয়েই মাস্কের সংস্থা জিওফেন্সিং-এর মাধ্যমে দেশের নানা প্রান্তে পরিষেবা বন্ধ-চালু করতে শুরু করে দেয়। এমনকী ইউক্রেন সেনার তরফে করা একাধিক অনুরোধেও কর্ণপাত করেননি মাস্ক।
শুধু পরিষেবা নিয়ন্ত্রণই নয়, তক্ষশীলা ইনস্টিটিউশন-এর ওই রিপোর্ট বলছে, দেশবাসীর সংবেদনশীল গ্রাহকতথ্য নিজেদের ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করার ক্ষেত্রেও পথ খোলা রয়েছে স্টারলিঙ্কের কাছে। ইতিমধ্যেই ভারতের নিরাপত্তা এজেন্সিগুলি পাঞ্জাব সীমান্তে আন্তর্জাতিক ড্রাগ চোরাচালানের কাজে স্টারলিঙ্ক হার্ডওয়্যার ব্যবহারের হাতেগরম প্রমাণ পেয়েছে। আন্দামান এবং গুজরাটেও ড্রাগ পাচারের সময় স্টারলিঙ্ক মিনি টার্মিনাল আটক করা হয়েছে।
মণিপুরেও পাওয়া গিয়েছে স্টারলিঙ্ক অ্যান্টেনা। যে সব উদাহরণের জেরে ভারতে বিদেশি বেসরকারি সংস্থার টেলিকম, বিশেষত স্যাটেলাইট টেলিকম পরিষেবা চালু করার বিপক্ষেই মুখ খুলেছেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান বেদপ্রকাশ মালিক। সংবাদসংস্থাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, কার্গিল যুদ্ধের সময় একতরফা ভাবে ভারতীয় সেনার উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল ওয়াশিংটন। তারপরেও একাধিক বার ভারতীয় সেনা মার্কিন রোষে পড়েছে। এ ছাড়াও রুশ তেল কেনা প্রসঙ্গে ট্রাম্পের ট্যারিফ মিসাইলে বিপুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ভারতীয় বাণিজ্য ক্ষেত্র। এই সব উদাহরণ থেকে শিক্ষা নিয়ে কোনও মার্কিন সংস্থার কাছে