নিজস্ব প্রতিবেদক:
বিশ্ব প্রকৃতি সংরক্ষণ দিবস উপলক্ষে রাজধানীর উত্তরা সেক্টর-১৭ লেকসাইড এলাকায় দ্বিতীয় মিয়াওয়াকি আরবান ফরেস্ট উদ্বোধন করা হয়েছে। শক্তি ফাউন্ডেশন ফর ডিসএডভান্টেজড উইমেনের উদ্যোগে, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি (এমটিবি)-এর সহযোগিতায় এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর সার্বিক সহায়তায় এ বনাঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।
নগর পরিবেশে সবুজায়ন বৃদ্ধি, বায়ুদূষণ ও তাপমাত্রা হ্রাস এবং নগরবাসীর জন্য স্বাস্থ্যকর, পরিবেশবান্ধব ও প্রাণবন্ত উন্মুক্ত স্থান গড়ে তোলার লক্ষ্যে মিয়াওয়াকি পদ্ধতিতে বনটি গড়ে তোলা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ মাহবুবুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শক্তি ফাউন্ডেশন ফর ডিসএডভান্টেজড উইমেনের উপ-নির্বাহী পরিচালক ইমরান আহমেদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, একটি সবুজ, টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল ঢাকা গড়ে তুলতে নগর বনায়নের বিকল্প নেই। তিনি এ ধরনের উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ ও পরিচর্যায় স্থানীয় জনগণ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সম্মিলিত অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, দ্রুত নগরায়ণের ফলে রাজধানীতে সবুজের পরিমাণ কমে যাচ্ছে। মিয়াওয়াকি আরবান ফরেস্টের মতো উদ্যোগ উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভাপতির বক্তব্যে ইমরান আহমেদ বলেন, শুধু গাছ লাগানো নয়, বরং সঠিক পরিচর্যাই একটি বনকে টেকসই করে তোলে। প্রথম দুই বছর যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে এই বনাঞ্চল ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান প্রাকৃতিক সম্পদে পরিণত হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজউকের সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ বশিরুল হক ভূঁইয়া, প্রধান প্রকৌশলী (প্রকল্প ও নকশা) মোহাম্মদ মুজাফফর উদ্দিন, প্রধান প্রকৌশলী (বাস্তবায়ন) মো. আমিনুর রহমান, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি-এর উপব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মামুন ফারুক, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের তুরাগ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমানসহ সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ব্যাংকিং খাতের প্রতিনিধিরা।
আয়োজকরা জানান, ২ হাজার ২৮৫ বর্গমিটার আয়তনের এ মিয়াওয়াকি আরবান ফরেস্টে ৯৩ প্রজাতির প্রায় ৬ হাজার ১০০টি দেশীয় ফলজ, ফুলজ ও ঔষধি গাছ রোপণ করা হবে। সরকারি, বেসরকারি ও উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত এ উদ্যোগ প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল নগর গড়ে তোলার পাশাপাশি নাগরিক জীবনের মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
