৩০ মিনিট আগে
সর্বশেষ আপডেট: ১১ মিনিট আগে
স্টার অনলাইন গ্রাফিকস
ঢাকার সাভারে ১৩ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার বাদীসহ ২১ জনকে আসামি করে মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলা করেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
আজ শনিবার সাভার মডেল থানায় মামলাটি করেন ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আব্দুল বারীর (৫০) বড় ছেলে মো. উমায়ের। মামলায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোশাররফ হোসেন দ্য ডেইলি স্টারকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে। এতে মাদ্রাসা থেকে ৪৭ লাখ টাকা নগদ, ২৩ লাখ টাকা মূল্যের ১২ ভরি স্বর্ণালংকার এবং সাত লাখ টাকা মূল্যের আসবাবসহ বিভিন্ন মালামাল লুটের অভিযোগ আনা হয়েছে।
দ্য ডেইলি স্টার মামলার এজাহারের একটি অনুলিপি পেয়েছে। এতে পুলিশের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে অভিযোগের মিল পাওয়া গেছে।
পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মামলায় নাম উল্লেখ করা ছয়জনের মধ্যে ধর্ষণ মামলার বাদী ও ওই শিক্ষার্থীর দাদা রয়েছেন। পুলিশের ওই সূত্রের দাবি, ঊর্ধ্বতন মহলের চাপে মো. উমায়েরের অভিযোগ অনুযায়ী মামলাটি নথিভুক্ত করতে হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পরিদর্শক (তদন্ত) মোশাররফ হোসেন বলেন, ধর্ষণ মামলার বাদীকে লুটপাটের মামলায় আসামি না করতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে নিষেধ করা হয়েছিল। তবে কর্তৃপক্ষ তাকে আসামি করেছে। তদন্ত ছাড়া তাকে গ্রেপ্তার করা হবে না।
মামলার বাদী মো. উমায়ের নিজেকে মাদ্রাসার পরিচালনা সহকারী পরিচয় দিয়ে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, তার বাবার বিরুদ্ধে ধর্ষণের যে মামলা করা হয়েছে, তা মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
উমায়েরের দাবি, মাদ্রাসার জায়গাজমি দখল ও লুটপাটের উদ্দেশ্যে তার বাবার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই রাতে মাদ্রাসায় ভাঙচুর চালিয়ে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ ৭৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করা হয়। এছাড়া ভাঙচুরের কারণে এক কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।
গত কয়েক বছর ধরেই একটি পক্ষ মাদ্রাসার জায়গাজমি দখল ও লুটপাটের চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে, লুটপাট ও ভাঙচুরের মামলায় ধর্ষণ মামলার বাদীকে আসামি করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর স্বজনেরা। ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি আব্দুল বারীকে পুলিশ এখনো গ্রেপ্তার না করায়ও ক্ষোভ জানিয়েছেন তারা।
গত বুধবার ১৩ বছর বয়সী ওই শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হলে সন্ধ্যায় এলাকাবাসী মাদ্রাসাটি ঘেরাও করেন। খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিরুলিয়া পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে এলাকাবাসীর তোপের মুখে পুলিশ সদস্যরা মাদ্রাসার ভেতরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
পরে পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। রাত পৌনে নয়টার দিকে তারা অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী ও ছেলেকে উদ্ধার করে থানার উদ্দেশে রওনা হয়। এরপর এলাকাবাসী দ্বিতীয় দফায় মাদ্রাসায় ভাঙচুর চালান এবং ভেতরে থাকা মালামাল লুট করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
