পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ খাইবার পাখতুনখাওয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। গতকাল রোববার নিরাপত্তাসংক্রান্ত সংবিধানের দুটি অনুচ্ছেদের আওতায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর ফলে কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতৃত্বাধীন প্রাদেশিক সরকারের কার্যক্রম কার্যত স্থগিত হয়ে পড়েছে। প্রদেশটিতে গভর্নরের শাসন জারি হয়েছে।
রোববার প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রদেশের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জরুরি অবস্থা জারির সুপারিশ করা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ওই সুপারিশে অনুমোদন দেওয়ার কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, খাইবার পাখতুনখাওয়ার প্রাদেশিক সরকার ‘সন্ত্রাসবিরোধী লড়াই থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে সরে দাঁড়িয়েছে’। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই মন্ত্রিসভা জরুরি অবস্থা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে কারাগারে থাকা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পিটিআইয়ের নেতাকর্মীরা রাজধানী ইসলামাবাদ অভিমুখে লংমার্চ শুরু করেছেন। গত ৪ অক্টোবর খাইবার পাখতুনখাওয়া থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির সপ্তম দিন ছিল শনিবার।
এদিকে পিটিআই হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, জরুরি অবস্থা কিংবা গভর্নরের শাসন জারি করে প্রদেশের সমস্যার সমাধান হবে না। ইমরানের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন এবং কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে প্রাদেশিক সরকারের বিরোধের মধ্যে জরুরি অবস্থা জারির এ সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।