মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের স্থগিত করা বহুল আলোচিত ‘ডাইভারসিটি গ্রিন কার্ড লটারি’ (ডিভি লটারি) ২০২৭ কর্মসূচি পুনরায় চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আদালত। আইন অনুযায়ী কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে অনাগ্রহ প্রকাশের পর আদালতের পক্ষ থেকে এই আদেশ এল। খবর ফোর্বসের।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৪ অক্টোবর মার্কিন জেলা জাজ জিনসুক ওহতা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং পররাষ্ট্র দপ্তরকে বিলম্বিত ডিভি ২০২৭ লটারির নিবন্ধন প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। গত বছরের নভেম্বরে ট্রাম্পের পররাষ্ট্র দপ্তর কোনো নির্দিষ্ট তারিখ না জানিয়ে এই লটারি স্থগিত করেছিল, যাকে আদালতে ‘প্রশাসন কর্তৃক স্বতঃপ্রণোদিত বাতিল’ বলে দাবি করে রেড ইগল ল‘য়ের আইনজীবী কার্টিস মরিসন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ, ১ নভেম্বর থেকে ৩০ দিনের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু এবং ৩ ডিসেম্বরের মধ্যে বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
১৯৯০ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডাব্লিউ বুশের আমলে কংগ্রেসের পাস করা ইমিগ্রেশন অ্যাক্টের অধীনে ডিভি লটারি চালু হয়। যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের হার কম, মূলত সেসব দেশের নাগরিকদের সুযোগ দিতেই প্রতি বছর এই কর্মসূচি পরিচালিত হয়ে আসছে। এর আওতায় প্রতি বছর পরিবারসহ সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার স্থায়ী বসবাসের (গ্রিন কার্ড) সুযোগ দেওয়া হয়।
তবে বিচারকের আদেশের পরপরই মার্কিন প্রশাসন এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে বলে জানা গেছে।
আইনজীবী কার্টিস মরিসন জানান, শুধু আবেদন গ্রহণ করলেই চলবে না; ২০২৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের সময়সীমার মধ্যে ভিসা প্রদান ও প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করতে হবে, যাতে বিজয়ীরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারেন।
উল্লেখ্য, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের নিয়ম অনুযায়ী যেসব দেশ থেকে গত পাঁচ বছরে ৫০ হাজারের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য পাড়ি জমিয়েছেন, সেই দেশগুলোকে ডিভি লটারির অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। এই ধারার আওতায় ২০১২ সাল থেকেই বাংলাদেশিরা ডিভি লটারির আবেদনের তালিকা থেকে বাদ পড়েন।
