Published on
:
2 min read
দুর্গাপুজোর সময়ে রাস্তা অবরোধের অভিযোগ উঠেছিল। লক্ষ্মীপুজোর সকালে গ্রেপ্তার পুজো কমিটির সাত সদস্য। রবিবার হুগলির ব্যান্ডেলের ঘটনা। ৫৪ বছর ধরে পুজো করেছেন, কিন্তু এ ভাবে অপদস্থ হতে হয়নি বলে আক্ষেপ পুজো কমিটির সম্পাদকের।
কী ঘটেছিল?
হুগলি জেলার নাম করা পুজোর তালিকায় পড়ে ব্যান্ডেল কেওটা নবীন সঙ্ঘের পুজো। প্রত্যেক বছরই এই পুজো প্যান্ডেলে লম্বা লাইন পড়ে। এ বছর নবমীর দিন ঘটনার সূত্রপাত। অভিযোগ, লটারির টিকিট বিক্রিকে সামনে রেখে দর্শকদের অন্য পথে প্যান্ডেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। সাধারণ লাইনে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে ঠাকুর দেখতে হচ্ছিল। কিন্তু যাঁরা লটারির টিকিট কাটছিলেন, তাঁরা আগেভাগে মণ্ডপে ঢোকার সুযোগ পাচ্ছিলেন।
এই খবর পুলিশের কান অবধি পৌঁছয়। এ ভাবে লটারির নাম করে লোকজনকে ভিআইপি পাসের সুবিধা দেওয়া হচ্ছিল বলেই অভিযোগ পায় পুলিশ। চোরবাগানের ঘটনার পরে সতর্ক ছিল তারাও। নবীন সঙ্ঘের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসতেই পুলিশ দ্রুত সেখানে পৌঁছে দু’জন সদস্যকে আটক করে।
এক নজরে
হুগলির ব্যান্ডেলের কেওটা নবীন সঙ্ঘের পুজো প্রাঙ্গণ; দুর্গাপুজোর নবমীর ঘটনার জেরে লক্ষ্মীপুজোর সকালে এই গ্রেপ্তারির ঘটনা ঘটে।
লটারির টিকিট কাটার বিনিময়ে দর্শকদের ভিআইপি এন্ট্রি বা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কমিটির বিরুদ্ধে।
পুলিশ দু’জন সদস্যকে আটক করলে তার প্রতিবাদে জিটি রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান নবীন সঙ্ঘের সদস্যরা।
সম্পাদক গৌতম দাস, ইন্দ্রজিৎ ঘোষ, মানিক পাল, টোটন কর্মকার, কার্তিক দেবনাথ, বিদ্যুৎ দাস ও দেবাশিস দাসকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।
এই আটকের পরেই নবীন সঙ্ঘের সদস্যরা জিটি রোড অবরোধ করেন। বিক্ষোভ চলে। পুলিশ সেখানে পৌঁছলে শুরু হয় বচসা। আটক দুই সদস্যকে ছেড়েও দেয়। কিন্তু ওই পুজো কমিটির বিরুদ্ধে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে চুঁচুড়া থানার পুলিশ।
এর পরে রবিবার,লক্ষ্মীপুজোর দিন সকালে নবীন সঙ্ঘের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাঁদের চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হয়। ধৃতরা হলেন গৌতম দাস, ইন্দ্রজিৎ ঘোষ, মানিক পাল, টোটন কর্মকার, কার্তিক দেবনাথ, বিদ্যুৎ দাস ও দেবাশিস দাস। পুলিশের ভ্যানে বসেই নবীন সঙ্ঘের সম্পাদক গৌতম দাস আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘এত বছর ধরে পুজো করছি, এ রকম অপদস্থ কোনওদিনও হতে হয়নি। খুব লজ্জা লাগছে।’
ধৃত টোটন কর্মকারের স্ত্রী শ্যামলী কর্মকার বলেন, ‘লক্ষ্মীপুজো করবে বলে বাজার করে এল। তার পরেই পুলিশ এসে তুলে নিয়ে চলে গেল। কেন ধরল কিছুই জানি না। এখানকার ছেলে ও। ছোট থেকে পুজো করতে ভালোবাসে। নবীন সঙ্ঘের পুজোতে থাকত। কিন্তু গ্রেপ্তার কেন করল, কিছুই জানি না। এর আগে দু’জনকে পুলিশ ধরেছিল, ছেড়েও দেয়। আজ ওকেও বাড়ি থেকে নিয়ে গেল। আজ যা দেখলাম, মেনে নিতে পারছি না।’
যদিও পুজোর লাইনে কাউকে কোনও রকম সুবিধা পাইয়ে দেওয়া যাবে না, তা নিয়ে প্রথম থেকেই কড়া অবস্থান ছিল প্রশাসনের। ভিআইপি পাস নয়, লাইনে দাঁড়িয়ে সকলেই সমান ভাবে মাতৃমূর্তি দর্শন করবেন। তার পরেও এই ধরনের অভিযোগ কোথাও কোথাও উঠেছে।
FAQs
প্রশ্ন: হুগলির ব্যান্ডেলের কেওটা নবীন সঙ্ঘের পুজো কমিটির সদস্যদের হঠাৎ কেন গ্রেপ্তার করা হলো?
উত্তর: দুর্গাপুজোর নবমীর দিন লটারির টিকিট বিক্রির নামে ভিআইপি সুবিধা দিয়ে প্যান্ডেলে লোক ঢুকানোর জেরে পুলিশের সঙ্গে বচসা ও জিটি রোড অবরোধ করার অভিযোগে লক্ষ্মীপুজোর সকালে পুজো কমিটির ৭ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে চুঁচুড়া থানার পুলিশ।
প্রশ্ন: কাদের গ্রেপ্তার করা হয়?
উত্তর: পুজো কমিটির সম্পাদক সহ ৭ জনকে গ্রেপ্তার করে চুঁচুড়া আদালতে পেশ করা হয়েছে, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।