প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম রাজশাহী সফর ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে নগরজুড়ে। তাকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বেকারত্ব দূরীকরণ, শিল্পায়ন কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও রপ্তানি সুবিধা বৃদ্ধি এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নসহ দীর্ঘদিনের দাবি পূরণের প্রত্যাশা করছেন রাজশাহীবাসী।
সফর ঘিরে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতার কাজও শেষ পর্যায়ে। প্রধানমন্ত্রীর সফরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন, তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং আখচাষিদের জন্য প্রণোদনা কর্মসূচির উদ্বোধনের কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠ পরিদর্শন শেষে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমান প্রথমবারের মতো রাজশাহী সফরে আসছেন। তাকে বরণ করতে সার্বিক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তার আগমনকে কেন্দ্র করে নগরবাসীর মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, রাজশাহীতে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং বেকারত্ব দূর করতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে গুরুত্বসহকারে তুলে ধরা হবে। রাজশাহীবাসী তাকে একনজর দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এই সফর নগরীর উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে আরও ত্বরান্বিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গত ২৯ জানুয়ারি ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ কৃষিঋণ মওকুফ ও কৃষক কার্ড দেওয়াসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তার দাবি, এসব প্রতিশ্রুতির অধিকাংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। একনেক সভায় পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা
রাজশাহীর উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাদের প্রত্যাশার তালিকায় রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি। এর মধ্যে শাহ মখদুম বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, কৃষিপণ্য রপ্তানির জন্য আন্তর্জাতিক কার্গো সুবিধা চালু, পদ্মা নদীর নাব্যতা রক্ষা, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এবং রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন অন্যতম।
পবা মোহনপুর আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল হক মিলন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজশাহী সফর এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করবে। রাজশাহীর কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে আমসহ বিভিন্ন কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও রপ্তানির ব্যবস্থা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আখচাষিদের স্বার্থে চিনিকল চালু, বীজ সংরক্ষণব্যবস্থা জোরদার এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন জরুরি। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে বলে তিনি আশা করেন।
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন বলেন, সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর প্রথম রাজশাহী সফরকে ঘিরে মহানগর ও জেলা বিএনপির নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। তাদের কাছে এটি ঈদের আনন্দের মতো।
মামুনুর রশিদ মামুনের ভাষ্য, তারেক রহমানের নেতৃত্ব উন্নয়ন ভাবনা ও সংস্কার উদ্যোগকে মানুষ ইতিবাচকভাবে দেখছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও নাগরিক অধিকারের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ধর্ম বর্ণ ও দলমতনির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় আয়োজন পরিদর্শন ও তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে সম্প্রীতি এবং সমান অধিকারের বার্তা আরও জোরালো হবে বলে তিনি আশা করেন।
নিরাপত্তায় তিন স্তরের ব্যবস্থা
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির।
তিনি বলেন, গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি সাদাপোশাকে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। নিরাপত্তায় স্ট্যাটিক ও স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বিভিন্ন সেক্টরের দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করবেন।
পুলিশ কমিশনার জানান, বিমানবন্দর থেকে সার্কিট হাউস পর্যন্ত সড়কে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী যেসব সড়ক দিয়ে চলাচল করবেন এবং যেসব স্থানে অবস্থান করবেন সেসব জায়গায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সড়কের বিভাজকে নতুন রং করা হয়েছে। পুরোনো স্থাপনায় দেওয়া হয়েছে রঙের প্রলেপ। বিভিন্ন এলাকায় সংস্কারকাজের মাধ্যমে সাজানো হয়েছে নগরী।
