কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ পেয়েছেন ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি সিরাজ উদ্দিনের ছেলে আলী আকবর তানভীর। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে ছেলের ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার বিষয়ে কিছুই জানতেন না বলে দাবি করেছেন সিরাজ উদ্দিন।
গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছাত্রলীগের কিশোরগঞ্জ জেলা সভাপতি আনোয়ার হোসেন মোল্লা পূর্ণাঙ্গ কমিটি প্রকাশ করেন। ওই কমিটিতে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আলী আকবর তানভীরের নাম রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তানভীরের বাবা সিরাজ উদ্দিন ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি।
ছেলের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে সিরাজ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, জীবিকার তাগিদে তানভীর গত কয়েক মাস ধরে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছেন। ছেলে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, এমন কোনো তথ্য তার জানা ছিল না।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘জামায়াত আর আওয়ামী লীগের আদর্শ কখনো এক নয়। ছেলে যে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, তা আগে জানলে তাকে ত্যাজ্যপুত্র করতাম।’
সিরাজ উদ্দিনের দাবি, কমিটি ঘোষণার পর তার ছেলে ফোন করে জানিয়েছে, সে পদত্যাগ করেছে। তবে পদত্যাগের কোনো অনুলিপি বা প্রমাণ তার কাছে নেই। ছেলেকে পড়াশোনার জন্য মালয়েশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে গিয়ে ছেলে এমন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়াবে, তা তিনি ভাবতেও পারেননি।
এ বিষয়ে যোগাযোগের জন্য ছেলের ফোন নম্বর চাওয়া হলে তা দিতে পারেননি সিরাজ উদ্দিন।
ছাত্রদল নেতার অভিযোগ
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে। ইটনা উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আজাদুর রহমান সুজন বলেন, ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতির ছেলে কীভাবে জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হন, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং বর্তমান সরকারকে বিপদে ফেলতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াত গোপনে এক হয়ে কাজ করছে। অতীতেও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবিরের নেতাকর্মীদের গোপনে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ঘটনা দেখা গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
জামায়াতের বক্তব্য
এ বিষয়ে ইটনা উপজেলা জামায়াতের আমির আবুল হোসেন বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে জামায়াতের কোনো সম্পর্ক নেই। এই অন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত সবার শাস্তি হওয়া উচিত। ইউনিয়ন জামায়াত সভাপতির ছেলে ছাত্রলীগ করে—এমন খবর আমার জানা ছিল না। যদি ঘটনা সত্য হয়, তবে এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়।’
তিনি আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে দলগতভাবে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তবে দ্রুতই ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলা হবে।
