Published on
:
2 min read
অর্পিতা হাজরা
প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের কোনও আবাসিক অসুস্থ হয়ে পড়লেই তাঁকে বাইরের কোনও হাসপাতালে রেফার করা এখন যেন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর অসুস্থ না–হলে বন্দিদের চিকিৎসা জেলের হাসপাতালে করাটাই দস্তুর। প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের হাসপাতালও এক সময়ে এর ব্যতিক্রম ছিল না।
কিন্তু কারা দপ্তর সূত্রের খবর, এখন এক রকম প্রতিদিনই সংশোধনাগারের গাড়িতে করে অসুস্থ আবাসিকদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জেলের বাইরের কোনও সরকারি হাসপাতালে। এতে একদিকে যেমন সরকারি হাসপাতালগুলির উপর রোগীর চাপ বাড়ছে, অন্য দিকে জেলের বাইরের হাসপাতালে বিচারাধীন বা সাজাপ্রাপ্তদের পাহারা দিতে নিযুক্ত করতে হচ্ছে পুলিশকর্মীদেরও।
কারা দপ্তর সূত্রের খবর, ওষুধের অপ্রতুলতা এবং চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে রাজ্য জুড়েই সংশোধনাগারের হাসপাতালগুলি ধুঁকছে। খাস কলকাতার প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের হাসপাতাল এর বড় উদাহরণ। যার ফলে সামান্য অসুস্থ হলেও কোনও বন্দিকে রেফার করা হচ্ছে জেলের বাইরে হাসপাতালে।
প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারের এক আধিকারিক বলছেন, ‘রোজ গড়ে কমপক্ষে ২০ জন অসুস্থ বন্দিকে এখন বাইরের হাসপাতালে রেফার করা হয়।’ কারা দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে আবাসিক বা বন্দির সংখ্যা এখন সব মিলিয়ে প্রায় ১৬০০, জেলের কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষী সব মিলিয়ে রয়েছেন ২০০ জন। টানা কয়েক দিনের জ্বর কিংবা পেট খারাপ হলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ওই আবাসিকদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে কাছে থাকা এসএসকেএম কিংবা অন্য কোনও সরকারি হাসপাতালে।
প্রেসিডেন্সি জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সেখানে এক জন স্থায়ী চিকিৎসক বা রেগুলার মেডিক্যাল অফিসার রয়েছেন আর জন অস্থায়ী চিকিৎসক পাঁচ জন। ‘আবাসিকদের ঠিকঠাক চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার জন্য যে পরিকাঠামো থাকা দরকার, এই সংশোধনাগারের হাসপাতালে সেটা নেই,’ বলছেন প্রেসিডেন্সি জেলের এক অফিসার। সংশোধনাগার সূত্রের খবর, প্রেসিডেন্সি জেলের ভিতরে একটি ছোট ফার্মাসি থেকে বন্দিদের ওষুধ দেওয়া হয় এবং তাতে ফার্মাসিস্ট রয়েছেন এক জন। তবে ওই মিনি ফার্মাসিতে অধিকাংশ মামুলি ওষুধও পাওয়া যায় না বলে সংশোধনাগারের কর্মীদের একাংশের অভিযোগ।
এমনিতেই প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে বিপুল সংখ্যক রোগীর চাপ। তার উপর শুধু প্রেসিডেন্সি জেল থেকেই রোজ গড়ে ২০ জন আবাসিককে রেফার করার অর্থ, সরকারি হাসপাতালের উপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়া। স্বভাবতই আবাসিকদের বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে নিয়ে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়ছেন সংশোধনাগার কর্তৃপক্ষ। কিন্তু জেলের ফার্মাসিতে সাধারণ ওষুধও কেন মিলছে না? কারা দপ্তর সূত্রের খবর, আগে প্রেসিডেন্সি জেলের ফার্মাসিতে ওষুধ সরবরাহের একচেটিয়া বরাত কয়েকটি সংস্থাকে নিয়মবহির্ভূত ভাবে পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এখন ছবিটা পাল্টেছে ঠিকই, তবে ওষুধ সরবরাহের ব্যবস্থা মসৃণ হয়নি।
এ সব নিয়ে প্রেসিডেন্সি–র ডিআইজি নবীন সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনও উত্তর দেননি।
রাজ্যের সংশোধনাগারগুলির উন্নয়ন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে কলকাতা হাইকোর্টে গত কয়েক বছর ধরে জনস্বার্থ মামলা চলছে। সেই মামলায় এ বছর মার্চ মাসে আদালতে রাজ্য সরকারের দেওয়া রিপোর্ট অনুয়ায়ী, রাজ্যে সব মিলিয়ে ৬১টি সংশোধনাগারের প্রতিটিতে এক জন চিকিৎসক থাকার কথা। অথচ ৩০ জন চিকিৎসকের পদ অনুমোদিত। এর মধ্যে সাকুল্যে দু’জন রেগুলার মেডিক্যাল অফিসার। কয়েক জন চুক্তিভিত্তিক চিকিৎসক দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে কিছু জায়গায়। ফার্মাসিও সব জেলে নেই, ফার্মাসিস্টের সংখ্যাও অনেকটা কম। গত অর্থবর্ষে কারা দপ্তর ২৫ জন চুক্তিভিত্তিক মেডিক্যাল অফিসার নিয়োগ করার জন্য ইন্টারভিউ নিয়েছিল। কিন্তু তার পরেও সংশোধনাগারের হাসপাতালগুলির অবস্থার উন্নতি হয়নি।
