কার্তিকে শুরুতেই প্রকৃতিতে বইতে শুরু করেছে শীতের আগমনী হাওয়া। ভোরের আলো ফুটতেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে ফসলের মাঠ, গ্রামীণ সড়ক ও বিস্তীর্ণ জনপদ। ঘাস ও গাছের কচি পাতায় জমছে মুক্তোদানার মতো শিশিরবিন্দু। হিমেল বাতাসে দিন দিন বাড়ছে শীতের অনুভূতি।
কুড়িগ্রামের রাজারহাটসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জনপদে কয়েক দিন ধরে ভোরে এমন আবহাওয়াই দেখা যাচ্ছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা পর্যন্ত কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ সড়ক ও লোকালয় ঘন কুয়াশার চাদরে ঢাকা ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে কুয়াশা কেটে দেখা দেয় রোদের তীব্রতা। তবে বিকাল গড়াতেই ফের অনূভূত হতে থাকে শীতের পরশ। সন্ধ্যার পর রাত যত গভীর হয়, ততই বাড়ে শীতের তীব্রতা।
সকালের এই বদলে যাওয়া আবহাওয়ায় গ্রামবাংলার প্রকৃতিতে ফুটে উঠেছে এক মোহনীয় রূপ। ফসলের মাঠে কুয়াশার সাদা আস্তরণ, ঘাসের ডগায় শিশিরবিন্দু আর দূরের পথজুড়ে ধোঁয়াশা স্পষ্টভাবে জানান দিচ্ছে ঋতু পরিবর্তনের বার্তা। ভোরের কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করেই জীবিকার তাগিদে মাঠে নামছেন কৃষক ও দিনমজুরেরা।
অন্যদিকে, সকালে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় গ্রামীণ ও আঞ্চলিক সড়কে চলাচলকারী যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে সাবধানে চলাচল করতে দেখা গেছে।
উপজেলার নাজিমানখান এলাকার কৃষক আবু বক্কর বলেন, এক সপ্তাহ ধরে সকালে বেশ ঠাণ্ডা অনূভূত হচ্ছে। তবে শনিবার সকালে অন্য দিনের তুলনায় কুয়াশা ও ঠাণ্ডার প্রকোপ বেশি ছিল। ভোর ৬টার দিকে ধানখেতে কীটনাশক দিতে গিয়ে ঠান্ডায় শরীর ভিজে যায়। প্রচুর ঠান্ডা লাগছে বাহে।
তিনি আরও জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে রাতেই তাদের কাঁথা-কম্বল গায়ে জড়াতে হচ্ছে।
একই এলাকার আরেক কৃষক পুলিন নারায়ণ চন্দ্রও সকালে ঠান্ডা ও কুয়াশার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার কথা জানান।
বাছড়া এলাকার অটোরিকশাচালক মমিন বলেন, শীত পুরোপুরি আসার আগেই এভাবে ঘন কুয়াশা নামবে, তা ভাবতেই পারিনি। সকাল ৭টার দিকে কুয়াশা এতটাই ঘন থাকে যে হেডলাইট না জ্বালিয়ে গাড়ি চালানোই সম্ভব হয় না।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার জানান, শনিবার সকাল ৬টায় রাজারহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাত ও সকালের তাপমাত্রার বড় ব্যবধান, সার্বিক আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং বাতাসে জলীয় বাষ্পের উচ্চ আর্দ্রতার কারণে ভোরে এমন ঘন কুয়াশা দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও জানান, বায়ুমণ্ডলের সার্বিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রার পারদ আরও নিম্নমুখী হতে পারে। তবে উত্তরাঞ্চলে ভোরের কুয়াশার পর দিনে কড়া রোদের তীব্রতা থাকায় শীতের স্থায়ী প্রভাব জেঁকে বসতে আরও কিছুটা সময় লাগবে।