Published on
:
2 min read
সুশান্ত বণিক, আসানসোল
দিন বদেলেছে। বদলেছে রুচিও। পুজোর ধরনে পরিবর্তন আসায় কোজাগরী পূর্ণিমায় সরা বা পোড়ামাটির থালায় আঁকা লক্ষ্মীপট পুজোর (Laxmi Puja 2026) চল আজ প্রায় অতীত। মাটির প্রতিমার সহজলভ্যতা এবং দাম কম হওয়ায় সে দিকেই ঝোঁক বেশি। এই পরিস্থিতিতে চরম আর্থিক সঙ্কটে পড়েছেন আসানসোলের মহিশীলার প্রবীণ শিল্পীরা। পেটের টানে বহু শিল্পী পেশা বদলালেও, হাতে গোনা কয়েকটি পরিবার আজও পূর্ববঙ্গের এই প্রাচীন লোকঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরে ধুঁকছেন।
রাত পোহালেই লক্ষ্মীপুজো। ঘরে ঘরে লক্ষ্মীর আরাধনায় মেতে উঠবেন গৃহস্থরা। ছোট-বড় লক্ষ্মীপ্রতিমায় এখন বাজার ছেয়ে গিয়েছে। কিন্তু আসানসোল-বার্নপুরের বাজারে একসময়ে সরার লক্ষ্মীপট বিক্রির যে প্রচলন ছিল, এখন আর সেরকম দেখা যায় না। বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, ক্রেতারা এখন আর লক্ষ্মীপট নিতে চান না, কারণ পটের দামেই বাজারে অঢেল ছোট লক্ষ্মীপ্রতিমার জোগান রয়েছে। চাহিদা উত্তরোত্তর কমে যাওয়ায় শিল্পীরাও লক্ষ্মীপট বানানো প্রায় বন্ধ করে দিয়েছেন।
সরার লক্ষ্মীপট মূলত পোড়ামাটির থালার মতো দেখতে হয়, যার পিঠের অংশ একটু অর্ধগোলাকৃতি থাকে। শিল্পীরা এই সরার উপরে রং-তুলির ব্যবহার করে লক্ষ্মীর বিভিন্ন রূপ ফুটিয়ে তোলেন। আসানসোলের মহিশীলার বাসিন্দা প্রবীর গঙ্গোপাধ্যায় জানান, এটি মূলত পূর্ববঙ্গীয় সংস্কৃতি হলেও অতীতে এ রাজ্যেও এর প্রচলন ছিল। বিশিষ্ট আচার্য মোহন গঙ্গোপাধ্যায়ের কথায়, ‘প্রাচীন ঐতিহ্যে পৃথিবী বা বসুন্ধরাকে লক্ষ্মীরূপে পুজো করা হয়। সরা যেহেতু মাটির তৈরি, তাই মাটি অর্থে পৃথিবী বা বসুন্ধরাই এ ক্ষেত্রে পূজিত হচ্ছেন।’
কিন্তু সময়ের নিয়মে সেই লোকঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। মহিশীলার একসময়ের প্রায় ১৫টি শিল্পীর পরিবারের মধ্যে এখন মাত্র তিনটি পরিবার এই পেশায় টিকে রয়েছে। তাঁদেরই একজন প্রসেনজিৎ পাল আক্ষেপ করে বললেন, ‘ক্রেতারা এখন আর সরার লক্ষ্মীপট কিনতে চান না। সরার দামেই বাজারে অঢেল ছোট লক্ষ্মীপ্রতিমা মিলছে। গত বার ১০০টি সরা বানিয়েছিলাম, সব বিক্রি হয়নি। এ বার আরও কম বানিয়েছি। জানি না ক’টা বেচতে পারব।’
