টাঙ্গাইলের মধুপুরে শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-১৪।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার অরণখোলা ইউনিয়নের জলছত্র হরিসভা মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান এসআরবি-১৪ এর অধিনায়ক, অতিরিক্ত ডিআইজি মু. মাসুদুর রানা।
পূজায় সাইবার নিরাপত্তা ও গুজবরোধের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি মু. মাসুদুর রানা বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ধরনের গুজব বা অপপ্রচার যাতে উৎসবের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সেজন্য আমাদের সাইবার পেট্রোলিং টিম সজাগ রয়েছে এবং আমরা তাৎক্ষণিকভাবে এর জবাব দিচ্ছি। স্থানীয় প্রশাসন ও থানা পুলিশের পাশাপাশি আনসার ও পুলিশ বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে আমরা ২৪ ঘণ্টাই জনগণের সেবায় নিয়োজিত আছি।”
প্রেস ব্রিফিংয়ে এসআরবি-১৪ এর অধিনায়ক জানান, ময়মনসিংহ অঞ্চলের ৬টি জেলা (টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, শেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ) এবং কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলার মোট ৩ হাজার ৩৫০টি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কাজ করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় মধুপুরের ৬০টি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শনের অংশ হিসেবে তিনি জলছত্র হরিসভা মন্দির মণ্ডপ এলাকা পরিদর্শন করেন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন।
নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “এসআরবি-১৪ এর হেডকোয়ার্টার ময়মনসিংহের নির্দেশনা মোতাবেক আমরা অনেক আগে থেকেই শারদীয় দুর্গোৎসব যাতে সুষ্ঠু ও সুসম্পন্ন হয়, সে জন্য কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের টাঙ্গাইলের কোম্পানি কমান্ডারের অধীনস্থ থানাগুলোতে সিভিল পোশাকে সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন এবং অন্যান্য গোয়েন্দা বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।”
তিনি জানান, বিভাগীয় প্রশাসন ময়মনসিংহ, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে এবং গত ১৩ অক্টোবর থেকে মাঠে কাজ শুরু হয়েছে। মণ্ডপ এলাকায় এবং এর বাইরে পোশাকধারী সদস্যদের সার্বক্ষণিক টহল ও প্রয়োজনে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত স্ট্রাইকিং ফোর্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও সরাসরি যোগাযোগের আহ্বান জানিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি জানান, এসআরবি-১৪ এর ময়মনসিংহ কন্ট্রোল রুম ছাড়াও জরুরি সেবার জন্য হটলাইন নম্বর (০১৭৭৭১রহঢ়ঁঃঋরবষফং১৯৯) এবং স্থানীয় টাঙ্গাইল জেলায় কোম্পানি কমান্ডারের নম্বর (০১৭৭৭১১৪৩৩)-এ যোগাযোগ করলে তাৎক্ষণিক সহায়তা পাওয়া যাবে। এছাড়া প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ তো রয়েছেই। প্রতিমা বিসর্জন পর্যন্ত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বলবৎ থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অন্যান্যের মধ্যে এসআরবি টাঙ্গাইলের কমান্ডার ইফতেখার হোসেন এবং মধুপুর উপজেলা পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের আহ্বায়ক বিকাশ চন্দ্র ঘোষসহ স্থানীয় পূজা কমিটির নেতৃবৃন্দ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
