চট্টগ্রাম নগর পুলিশের তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাংয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত ওয়াকিল হোসেন ওরফে ‘বিহারী বগা’ চাঁদাবাজির একটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেছিলেন। তবে আদালত তাঁর আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মহিদুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। নগর পুলিশের উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) হাসান ইকবাল চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চাঁদাবাজির মামলায় ওয়াকিল আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি নাকচ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রাসঙ্গিক সংবাদ
ওয়াকিল নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে গত ১০ জুন তাঁকে বহিষ্কার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজি ও জমি দখলসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা ছিল ১৮টি। পরবর্তী সময়ে নতুন মামলা যুক্ত হওয়ায় বর্তমানে সেই সংখ্যা ২৩টিতে দাঁড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
পুলিশের অভিযোগ, ওয়াকিল একাধিক কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণ করতেন এবং রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব ব্যবহার করে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। সরকারি প্লট দখল, মাদক ব্যবসা, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, পুলিশের ওপর হামলা এবং কলেজশিক্ষক ও সাংবাদিককে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের বিষয়ে মামলাগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সেগুলো অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হবে।
একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় পুলিশ দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। গত ৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান কার্যালয়ে তাঁর অবস্থানের খবর পেয়ে সেখানে অভিযান চালান পুলিশ সদস্যরা। এর আগে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহিমকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল বলে জানান নগর পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর নগরের ওয়্যারলেস কলোনিতে কিশোর গ্যাংয়ের দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের জেরে হৃদয় নামের এক তরুণ নিহত হন। ‘সেভেন স্টার’ ও ‘ফাইভ স্টার’ নামে পরিচিত দুই পক্ষের বিরোধের ঘটনায় দায়ের করা মামলায়ও ওয়াকিলকে আসামি করা হয়েছে।
এ ছাড়া গত ৬ অক্টোবর জমি দখল, চাঁদাবাজি ও অপহরণের অভিযোগে ওয়াকিলসহ ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে খুলশী থানায় আরেকটি মামলা করা হয়। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি করেন প্রয়াত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা আফলাতুনের ছেলে শেখ মুহাম্মদ আরিফ।
চাঁদাবাজির মামলায় আদালতের সর্বশেষ আদেশের ফলে ওয়াকিলকে কারাগারে থাকতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর পরবর্তী আইনি পরিস্থিতি নির্ভর করবে।
-20261018141402.jpg&w=1440&q=75)