রাজধানীর মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় করা মামলায় শাহ আলী থানা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ ওরফে লেলিনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। পুলিশের তালিকায় তিনি ‘শ্যুটার লেলিন’ নামে পরিচিত। এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়ার আবেদন করেছিল পুলিশ।
গতকাল সোমবার (১৯ অক্টোবর) তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডের আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হকের আদালত তার দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক লুৎফর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১২টা ৫ মিনিটে শাহ আলী থানাধীন এলাকায় অবস্থিত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হ্যামার, লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক হামলা চালায়। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে দায়িত্ব পালনরত দুই নৈশপ্রহরী আন্দ্রিয় সরকার (৪৩) ও মো. আব্দুল হাইকে (৬৩) মারধর করে এবং বেঁধে আটকে রাখে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, পরে হামলাকারীরা হ্যামার দিয়ে প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটক ভেঙে একটি ভেকু নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর প্রতিষ্ঠানের পূর্ব পাশে থাকা প্রায় ২৮ ফুট দীর্ঘ ও ১৫ ফুট প্রস্থের একটি সেমিপাকা ঘর ভেকু দিয়ে ভেঙে ফেলে। এতে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়।
এ ছাড়া পরিবার পরিকল্পনা সেবা দেয়ার জন্য ব্যবহৃত আরেকটি সেমিপাকা ঘর ও এর আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। এতে প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। ক্লিনিক ইনচার্জ, চিকিৎসক ও ডেপুটি ক্লিনিক ইনচার্জের ব্যবহৃত প্রায় ৬০ ফুট দীর্ঘ ও ১৭ ফুট প্রস্থের সেমিপাকা ঘরটিও ভাঙচুর করা হয়। ওই ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও যন্ত্রপাতিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০ লাখ টাকা বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, হামলাকারীরা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ১০০ ফুট দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রস্থের রেজিস্ট্রেশন শাখায়ও ভাঙচুর চালায়। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। সবশেষে আল্ট্রাসনোগ্রাম, টিকাদান ও ল্যাবরেটরি কক্ষের পাকা ভবনের দরজা-জানালা ভাঙচুর করা হয়। এতে আরও প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভাঙচুরের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে মামলায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলাকারীরা বিভিন্ন ওষুধ ও সামগ্রী, দুটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, দুটি কম্পিউটার, দুটি প্রিন্টার, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি ও তিনটি স্টিলের আলমারি নিয়ে যায়। এসব মালামালের আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা।
মামলার অভিযোগে পাঁচটি ঘর, দরজা-জানালা ভাঙচুর এবং মালামাল লুটের ঘটনায় মোট প্রায় এক কোটি নয় লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় দুই নৈশপ্রহরীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তারা ঘটনাস্থলে একটি দোকানদার সমবায় সমিতির ব্যানার ও সাইনবোর্ডও লাগিয়ে যায়।
এ ঘটনায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার শাহ আলী থানায় মামলা করেন। মামলায় মো. হানিফ মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
