ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের নামে বরাদ্দ করা পরীক্ষার উত্তরপত্র হারানোর ঘটনায় বিভাগের দৈনিক মজুরিভিত্তিক পিয়নের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তাকে বিভাগে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়াসহ তিনটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
অন্য দুটি সিদ্ধান্ত হলো—হারিয়ে যাওয়া উত্তরপত্রের সংশ্লিষ্ট কোর্সে প্রথম পরীক্ষকের দেওয়া নম্বরকে দ্বিতীয় পরীক্ষকের নম্বর হিসেবে বিবেচনা করা এবং বিভাগের পরীক্ষাসংক্রান্ত কাজে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার নির্দেশ দেওয়া। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, ২১০৭ নম্বর কোর্সের উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ায় প্রায় পাঁচ মাস ধরে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ফলাফল আটকে রয়েছে। ফল প্রকাশ না হওয়ায় পরবর্তী সেমিস্টারের পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করেও তা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে বিভাগটি। এতে বিষয়টি বিভাগের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হলে বিভাগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে এখনো হারিয়ে যাওয়া উত্তরপত্রের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এমনকি এ ঘটনায় কোনো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়নি বলে জানিয়েছেন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী।
বিভাগে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা পাওয়া পিয়ন জাবেদ আলী জানান, শিক্ষকদের নামে বরাদ্দ করা পরীক্ষার উত্তরপত্র আনা-নেওয়াসহ বিভাগের অধিকাংশ কাজই তিনি করতেন। আনুমানিক তিন মাস আগে পুরোনো কাগজপত্রের সঙ্গে তিনি উত্তরপত্রগুলো বিক্রি করে দেন। এর কিছুদিন পর উত্তরপত্রগুলো খোঁজাখুঁজি শুরু হলে তিনি সেগুলো বিক্রি করে দেওয়ার বিষয়টি বিভাগের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের জানান।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আয়নুল হক আকন্দ বলেন, আমরা সব বিষয় তদন্ত করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এখানে কাউকে ফাঁসানো বা কারও প্রতি অবিচার করা হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান ও উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমানের সঙ্গে মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি।