কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা জানতে ময়নাতদন্তের সময় সংগ্রহ করা সোয়াবের নমুনা ও তার পরিধেয় পোশাক ঢাকায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে। এ ছাড়া কিশোরীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনেরও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।
এসব আলামত পরীক্ষাগারে পাঠানোর অনুমতি চেয়ে কুমিল্লার আদালতে আবেদন করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। সোমবার (১২ অক্টোবর) লালমাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ আল ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, তদন্তে কোনো বিষয় বাদ দেওয়া হবে না। ভুক্তভোগীর সোয়াব, মোবাইল ফোন, পোশাকসহ বিভিন্ন আলামত সিআইডির পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। কিশোরীর কক্সবাজারে যাওয়া এবং সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে এক তরুণের সঙ্গে অবস্থানের বিষয়টিও শনাক্ত করা হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, কক্সবাজারের হোটেলে কিশোরীকে ডেকে নেওয়া তরুণকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
এদিকে, কিশোরীকে কক্সবাজারে ডেকে নেওয়ার অভিযোগে রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়।
রাজু বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বড়ঘোনা এলাকার মনির আহমেদের ছেলে। তিনি কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকার একটি আবাসিক হোটেলে বয় হিসেবে কাজ করেন।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, কুমিল্লা পুলিশের অনুরোধে রাজুকে আটক করা হয়। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাঁকে কুমিল্লার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কুমিল্লা পুলিশ তাঁকে আবার থানায় নিয়ে আসে। সন্ধ্যায় ৫৪ ধারায় তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার আরেক আসামি সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া শনিবার (১০ অক্টোবর) আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায় স্বীকার করেন।
পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে ফিরে কুমিল্লা নগরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে নামে ওই কিশোরী। পরে ৩০০ টাকা ভাড়ায় তাকে নগরের রেসকোর্স এলাকার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে লালমাই উপজেলার একটি কৃষিজমিতে নিয়ে যান সুমন। সেখানে ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়। পরে কিশোরীর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে আইফোন নিয়ে অন্য একটি অটোরিকশায় পালিয়ে যান তিনি। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেফতার করে কুমিল্লায় নিয়ে আসে পুলিশ।
গত ৪ অক্টোবর সকালে বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হয় কিশোরীটি। ৭ অক্টোবর রাত ১২টা ১৯ মিনিটে তাকে সর্বশেষ কুমিল্লার হোটেল নূরজাহানের সামনে দেখা যায়। ওই দিন রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবার হোয়াটসঅ্যাপে নিজের লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বার্তা পাঠায় সে। তবে বাবা ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পাননি।
পরে ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগৎপুর গ্রামের ধানক্ষেত থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় তার বাবা বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
