রহস্য, রোমাঞ্চ আর উত্তেজনায় ঘেরা তেমনই ৬টি দারুণ বই নিয়ে সাজানো আজকের বইপাড়া। চলুন, ডুব দেওয়া যাক সেই দুনিয়ায়।

৬ বইছবি : এআই
বাইরে তখন ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। ঘরের কোণের টেবিল ল্যাম্পটা কেবল জ্বলছে। আপনি পাতা উল্টে যাচ্ছেন, আর চারপাশের পরিচিত জগৎটা আস্তে আস্তে মিলিয়ে গিয়ে আপনাকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে এক অচেনা রহস্যের গভীরে। কখনও বুক ধুকপুক করছে, কখনও বা গা ছমছম করে উঠলে আপনি অজান্তেই জড়িয়ে ধরছেন চাদরটা। রহস্য, রোমাঞ্চ আর উত্তেজনায় ঘেরা তেমনই ৬টি দারুণ বই নিয়ে সাজানো আজকের বইপাড়া। চলুন, ডুব দেওয়া যাক সেই দুনিয়ায়।
1. কম্পাস — স্মরণজিৎ চক্রবর্তী
কম্পাস — স্মরণজিৎ চক্রবর্তীছবি : সংগৃহীত।
‘ফলো দ্য স্টার,’ উশ্মিলকে শেষ কথাগুলো বলে গিয়েছিলেন ওর ঠাকুরদা। সঙ্গে দিয়েছিলেন একটা প্যাকেট, আর এক মানুষের ঠিকানা। সেই ছোট্ট প্যাকেট আর একটা অচেনা নাম সম্বল করে উশ্মিল যখন কলকাতার মাটিতে পা রাখে, তখন তাঁর হাত ধরে শুরু হয় এক অন্যরকম খোঁজ। আর সেই অনুসন্ধানের ভিড়ে হঠাৎ করেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে তেতাল্লিশ বছর আগের এক উত্তাল কলকাতা। সেকালের বুকে নিজের মতো করে মাথা তুলতে চাওয়া আদীপ্ত আর মৌরিমার সেই ভাসা-ভাসা প্রেমের গল্প, সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া সুতো আর জীবনের নানা আলো-ছায়ার ভিতরে মানুষের অবিচল ভালোবাসার এক অদ্ভুত দলিল হয়ে থেকে যায় এই ‘কম্পাস’।
2. লিলি — দেবারতি মুখোপাধ্যায়
লিলি — দেবারতি মুখোপাধ্যায়ছবি : সংগৃহীত।
কখনও ভেবে দেখেছেন কি, আমাদের চারপাশে যাঁরা ঘুরে বেড়ায়, তাঁদের ঠিক কতটা গভীরে লুকিয়ে থাকে অন্ধকার? এই বইয়ের পাতা উল্টোলেই আপনার সামনে আসবে ছ’টি গল্প — লিলি, ভীমরতি, সমাজচ্যুত, ডুবুরি, রিভেঞ্জ আর অনাহুত। যুক্তি যেখানে এসে থমকে দাঁড়ায়, অবচেতনের অলিগলিতে যেখানে ফিসফিস করে কথা বলে অতিপ্রাকৃত শক্তি, সেখানেই হানা দেয় এই গল্পগুলো। সবচেয়ে বড় কথা, এখানে অপরাধী বলতে কোনও তথাকথিত দাগী আসামী নেই, রয়েছে আমাদেরই চেনা সমাজের সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষের মনের গভীরে জমতে থাকা নিগূঢ় বিষ।
3. মিত্তির বাড়ির গুপ্তধন — অভীক সরকার
মিত্তির বাড়ির গুপ্তধন — অভীক সরকারছবি : সংগৃহীত।
আঠারোশো নব্বই সাল। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এক গ্রাম ঘুঘুডাঙা। সেখানকার শতাব্দীপ্রাচীন জমিদারবাড়ির বিশাল শিবলিঙ্গের মাথা থেকে হঠাৎই গায়েব হয়ে গেল এক খণ্ড সোনার ত্রিপুণ্ড্রক। কে চুরি করল ওটা? এদিকে জমিদারবাড়ির বিশ্বস্ত লেঠেল লখাই সামন্ত খুন হওয়ার পর থেকেই গ্রামের বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। একে একে এসে হাজির হলো কিছু খটমটে চরিত্র — এক দাঁতের ডাক্তার, এক তান্ত্রিক সন্ন্যাসী আর ছদ্মবেশী দুই সিআইডি অফিসার। রহস্য, রোমাঞ্চ, একটুখানি ভূত আর ভরপুর অ্যাডভেঞ্চারে মোড়া এই গল্প আপনাকে নিয়ে যাবে এক অন্য সময়ে।
4. ঘুমঘাট — সায়ক আমান
ঘুমঘাট — সায়ক আমানছবি : সংগৃহীত।
ছোটবেলায় ঝিল আর বোধিসত্ত্ব ঠিক করেছিল, জীবনে যদি কখনও কোনও বড় বিপদে পড়ে যায়, সব লড়াইতে হেরে গিয়ে যাওয়ার মতো আর কোনও জায়গা যদি না থাকে, তবে সব ছেড়েছুড়ে তারা সোজা পালিয়ে যাবে ‘ঘুমঘাট’-এ। কিন্তু ঘুমঘাট আসলে কোথায়? পাহাড়ি উপত্যকার কোলে কি সত্যিই এমন কোনো মায়াবী জায়গা আছে, নাকি ওটা নিছকই ছেলেবেলার কল্পনা? দুই ঘর-পালানো বন্ধু আর তাদের সেই অদ্ভুত মুখের বিড়ালটার সঙ্গে পাহাড়-জঙ্গলের খাঁজে খাঁজে সেই হারিয়ে যাওয়া ঠিকানার খোঁজ করার রোমাঞ্চ আপনাকেও এক অদ্ভুত ঘোর লাগিয়ে দেবে।
5. ডেয়ার অর ডাই — সায়ন্তনী পুতুতুণ্ড
ডেয়ার অর ডাই — সায়ন্তনী পুতুতুণ্ডছবি : সংগৃহীত।
‘ফোবিয়ান্স নামটা সার্থক স্যার! সবার জন্যই মূর্তিমান ফোবিয়া ছিল ওরা!’ জলপাইগুড়ি গভর্মেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের একশো এক নম্বর বি হস্টেল রুম — যা সবার কাছে পরিচিত এক অভিশপ্ত ‘হন্টেড রুম’ নামে। আজ থেকে ত্রিশ বছর আগে ঠিক এই ঘরেই রহস্যজনক ভাবে মারা গিয়েছিল শ্রেয়স নামের এক ছেলে। ঠিক তার দশ বছর পর ওই একই ঘরে ঘটে আরও এক মর্মান্তিক মৃত্যু। ফরেনসিক রিপোর্ট বলছে স্বাভাবিক হার্ট অ্যাটাক, কিন্তু কমন ফ্যাক্টর একটাই — সকলেই মরার ঠিক আগে ভীষণরকম ভয় পেয়েছিলেন। অস্ত্র নেই, বিষ নেই, বুলেট নেই, তবে মানুষগুলো মরছে ঠিক কী কারণে? ভয়ের চোরাবালি থেকে উঠে আসা এই রোমহর্ষক জটাজালে আপনার বুকও কাঁপবে প্রতি মুহূর্তে।
6. আয়নাঘর — হুমায়ূন আহমেদ
আয়নাঘর — হুমায়ূন আহমেদছবি : সংগৃহীত।
বিদেশিনী স্ত্রী লিলিয়ানকে নিয়ে পুরোনো বাড়িতে ঘুরতে ঘুরতে তাহের এসে দাঁড়াল এক ছোট্ট কামরার সামনে। বলল, ‘লিলি! এই দেখ, এটার নাম আয়নাঘর। জানালাবিহীন এই ঘরে আমাদের পরিবারের রূপবতী বধূরা দরজা বন্ধ করে সাজগোজ করত।’ লিলিয়ান কৌতূহলী হয়ে দরজা বন্ধ করে যখন একটা মোমবাতি জ্বালালো, তখন হঠাৎ করেই বদলে গেল ঘরের চারপাশ। আয়নার অন্ধকার বুক চিরে লিলিয়ানের মনে হলো — কে যেন অতন্দ্র চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। গা ছমছমে এই রহস্যময় পরিবেশের জাদুতে আপনিও হারিয়ে যাবেন মুহূর্তের মধ্যে।
