মা-ইলিশ নিষেধাজ্ঞার সময় জেলেদের জন্য খাদ্য সহায়তা হিসেবে বরাদ্দকৃত চাঁদপুর সদরের লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়নের প্রায় ৫ টন চাল গোপনে বিক্রির পর নিয়ে যাওয়ার সময় জব্দ করেছে প্রশাসন। এ ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। রোববার রাত পর্যন্ত গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব চাল শহরের বিপনীবাগ বাজার এলাকা থেকে জব্দ করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রত্যয় হাশেম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৮-২৯ অক্টোবর ২২ দিন মা ইলিশ রক্ষায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে চাল বরাদ্দ দেয় সরকার। সেই আলোকে ৪ হাজার ৯৭০ জেলের জন্য বরাদ্দ হয় ১১.২৫ টন চাল। কিন্তু ওই চাল নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে বিতরণ হয়নি। চাল বিতরণ না হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। চুরি করে বিক্রি করে দেওয়া চাল নিয়ে যাচ্ছিলেন পিকআপ চালক শাহাদাত। তিনি বলেন, চাঁদপুর সিএসডি গোডাউন থেকে তিনি ওই চালের ভাড়া নিয়ে কুমিল্লার লাকসাম যাচ্ছিলেন। চালের মালিকের নাম বলা হয়নি। বলা হয়েছে লাকসাম যাওয়া হলে ওই ব্যক্তির নাম দেওয়া হবে। কিন্তু পথে হাজীগঞ্জে এলে ফোন আসে চালগুলো ফেরত নিয়ে আসার জন্য। যে কারণে ফেরত নিয়ে আসছি। বিক্রীত টোকেনে চালের পরিমাণ লেখা ছিল ৪৯৩০ কেজি। চালের মালিকের নাম ছিল না। এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাল চুরি করে বিক্রির তথ্য জানাজানি হলে ল প্রশাসনিক কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা শামীম তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন। সহকারী কমিশনার ভূমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম বলেন, তিনি জেলা প্রশাসক ও ইউএনও কাছ থেকে তথ্য পান জেলেদের বরাদ্দ চার জেলার বাইরে যাচ্ছে। ওই চাল খুঁজে এবং অভিযান করে আটক করি। সেই আলোকে সর্বশেষ শহরের বিপনীবাগ থেকে জব্দ করতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে মেসেজ এসেছে এ চাল জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত। এ কাজে একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা জড়িত। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ঘটনার প্রতিবেদন জমা দিবে। এদিকে নির্দিষ্ট সময়ে কেন জেলেদের চাল বিতরণ হয়নিÑ এ তথ্য জানার জন্য বরাদ্দের দায়িত্বরত কর্মকর্তা সদর ইউএনও এসএমএন জামিউল হিকমার কাছে ফোন দেওয়া হয়। তিনি ফোন রিসিভ না করে মেসেজ দিতে বলেন। কিন্তু তিনি চাল বিতরণ দেরি হওয়ার কারণ না বলে মেসেজে লিখেন চাল সুষ্ঠুভাবে বিতরণ হবে।